বাসস
  ১৭ জুন ২০২৬, ১৯:৩৫

খুলনায় সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব, সমস্যা, সম্ভাবনা শীর্ষক সেমিনার 

ছবি : বাসস

খুলনা, ১৭ জুন, ২০২৬, (বাসস) : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সৌরশক্তিকে কাজে লাগানো। বাস্তবতা হচ্ছে সোলারের যে যুগটা শুরু হয়েছিল সেটা হঠাৎ থমকে গেছে।
 
গ্রামের হাট-বাজারের ছোট-বড় দোকানগুলোতে সোলারের প্রচলন অনেক বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু এ সেক্টরে কারিগরিভাবে দক্ষ জনবলের অভাব এবং সোলার এনার্জির ক্ষেত্রে বিগত সরকারের অসহযোগিতা দায়ী বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আজ বুধবার দুপুরে নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ কেসিসি’র সোলার এনার্জি পার্কের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব : সমস্যা, সম্ভাবনা এবং করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক এ কথা বলেন।

‘প্রকৃতিতে বাঁচি-প্রকৃতি বাচাই’ শিরোনামে নাগরিক সংগঠন পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ এ সেমিনারের আয়োজন করে। বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সোলার এনার্জি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর লক্ষ্য নিয়ে সংস্থাটি এখানে সেমিনারটির আয়োজন করে।

কেসিসি প্রশাসক আরও বলেন, বিকল্প এনার্জি ছাড়া চলা সম্ভব নয় তা ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ আমাদের উপলব্ধি করিয়েছে। চায়নার একটি কোম্পানি খুলনায় সোলার প্যানেল ম্যানুফ্যাকচার কোম্পানি করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের এই আগ্রহ কাজে লাগাতে হবে।

বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় বিচ্ছিন্নভাবে নয় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। একইসাথে তিনি সবুজ শহর বিনির্মাণের পাশাপাশি সোলার শহর বিনির্মাণ আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সোলার এনার্জি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা হবে বলে জানান।

বিশে^র বিভিন্ন দেশের মোট জ্বালানির মধ্যে বিকল্প জ্বালানির উৎস হিসেবে নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুতের হার তুলে ধরে সেমিনারে বক্তারা বলেন, বর্তমানে বিশ^ব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কয়লা আমদানিতে জটিলতা এবং এর উচ্চমূল্য অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
 
জ্নিবর অভাবে অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। পানি ও সেচের অভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দেশের কৃষি ও কৃষক। অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে কার্বন নি:সরণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আমাদের পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে আক্রান্ত হচ্ছি ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও জলচ্ছ্বাসে। আশার কথা হচ্ছে, বর্তমান সরকার সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনকে খুবই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে রিনিউয়্যাবল এনার্জি খাতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও আনন্দের কথা সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সোলার যন্ত্রাংশ আমদানি শুল্কমুক্ত করেছেন বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি এ্যাড. কুদরত-ই-খুদা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ইয়াহিয়া, কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী মো. সাবিরুল আলম, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিহির লাল সরদার, খুলনা বি বিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের শিক্ষক প্রফেসর ড. সালাহ উদ্দিন মিনা, ওজোপাডিকো’র সহকারী প্রকৌশলী নন্দলাল চন্দ্র সরকার, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম, কেসিসি’র সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জাহিদ হোসেন শেখ ও জেট নেট বিডি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ।

প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ইনিশিয়েটিভ ফর রাইট ভিউ’র নির্বাহী পরিচালক মেরিনা যুথি।