বাসস
  ১৭ জুন ২০২৬, ২১:০৩

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

সংসদ ভবন, ১৭ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ভৌগোলিক অবস্থান, ঘনবসতি, বিস্তৃত নদ-নদী ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগ প্রবণ দেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় পানি সম্পদ খাতে সরকার বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহন করেছে।

আজ জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. রবিউল আওয়াল-এর তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন, খরা, অতিবৃষ্টি, বজ্রপাত, তাপপ্রবাহ ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগের প্রকোপ ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব দুর্যোগ মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, অবকাঠামো, পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পানি সম্পদ খাতে পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদীভাঙন রোধ, বন্যা সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ততা হ্রাসসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১৩ মে (২০২৬) তারিখে ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্পের প্রথম পর্যায় অনুমোদন করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানি সংরক্ষণ ও প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ কমবে, সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধার হবে, সেচ সুবিধা ও পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এছাড়া প্রকল্প থেকে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জাতীয় জিডিপিতে অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সেচ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত অন্যান্য উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষমেলার আয়োজন এবং তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য প্রাকৃতিক জলাধার গড়ে তোলা, জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপদ জীবিকা নিশ্চিতকরণ এবং নারী, শিশু, জেলে ও অন্যান্য পেশাজীবীদের সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলায় টেকসই বেড়িবাঁধ, সাইক্লোন শেল্টার এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হবে।

তিনি আরও জানান, জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের আওতায় প্রণীত জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্ল্যান-এনএপি) বাস্তবায়নের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় ‘এনএপি ইনভেস্টমেন্ট রোডম্যাপ’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে সরকার থার্ড ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন (এনডিসি-৩.০) প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া চারটি ওয়েস্ট-টু-এনার্জি কেন্দ্র, ২৬টি ইন্টিগ্রেটেড ল্যান্ডফিল অ্যান্ড রিসোর্স রিকভারি ফ্যাসিলিটি স্থাপন এবং উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চলে এক লাখ হেক্টর এলাকায় বনায়ন ও পুনর্বনায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

দীর্ঘমেয়াদে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যে ‘লং টার্ম লো এমিশন ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি’ প্রণয়নের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্যারিস চুক্তির আর্টিকেল-৬ এর আওতায় একটি সুসংহত কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্বন বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে ত্রাণ নির্ভরতা থেকে ঝুঁকি হ্রাস ভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় রূপান্তর করা হয়েছে। এর ফলে দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি সফল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে।