বাসস
  ১৬ জুন ২০২৬, ২০:৪৪

বাগেরহাটে আটটি খাল পুনরুদ্ধারে কর্মসূচি শুরু, কমবে জলাবদ্ধতা

ছবি : বাসস

বাগেরহাট, ১৬ জুন, ২০২৬, (বাসস): পৌর শহরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারি খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা।

খাল ও জলাশয়ের সীমানা নির্ধারণ, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, অবৈধ দখল ও বাঁধ উচ্ছেদ এবং প্রয়োজনীয় খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে শহরের আলীয়া মাদ্রাসা সড়ক সংলগ্ন বালিয়ার খালে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধনের মাধ্যমে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, সুজন, বাগেরহাটের সম্পাদক এস কে হাসিব, বাগেরহাট কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, পুরাতন কোর্ট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা রুহুল আমিন'সহ বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, অতীতেও খাল রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হলেও সেগুলোর সুফল দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তবে এবার জেলা প্রশাসন, পৌরসভা, সামাজিক সংগঠন ও পরিবেশবাদীদের সমন্বিত উদ্যোগ আশাব্যঞ্জক।

তিনি বলেন, শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ নয়, স্থানীয় জনগণকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। সবাই সচেতন হলে খালগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পাবে এবং জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল বলেন, বছরের পর বছর বর্জ্য ফেলা ও অবৈধ দখলের কারণে অনেক খাল সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, খালগুলো দ্রুত পুনরুদ্ধার করা না গেলে ভবিষ্যতে নগরবাসীকে আরও বড় ধরনের পরিবেশগত ও নাগরিক দুর্ভোগের মুখে পড়তে হবে।

পৌর প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন জানান, শহরের বিভিন্ন খাল পরিদর্শন করে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এমন স্থান এবং অবৈধ বাঁধগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে খালগুলোর নাব্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কাজ করা হবে।

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, বাগেরহাট পৌর এলাকায় মোট আটটি খাল রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য ফেলা, অবৈধ দখল এবং বাঁধ নির্মাণের কারণে এসব খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, খাল পরিষ্কার, খনন, সীমানা নির্ধারণ এবং দখলমুক্ত করার কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে। সরকারি খাল ও জলাশয় রক্ষায় সচেতন নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, সমন্বিত এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।