বাসস
  ১৪ জুন ২০২৬, ২১:০৪

বাগেরহাটে বিপুল পরিমাণ সন্দেহভাজন নকল ডার্বি সিগারেট উদ্ধার

ছবি : বাসস

বাগেরহাট, ১৪ জুন, ২০২৬ (বাসস): জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলা থেকে বিপুল পরিমাণ সন্দেহভাজন নকল ডার্বি সিগারেট এবং সিগারেট তৈরির বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আজ রোববার বিকেলে মোরেলগঞ্জ পৌরসভার সানকিভাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত ক্রাউন টোবাকো ইন্ডাস্ট্রিজ সংলগ্ন একটি গোয়ালঘরে অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ১০ লাখ শলাকা ডার্বি ব্র্যান্ডের সিগারেট উদ্ধার করা হয়। 

এছাড়া আরও কয়েক লাখ সিগারেট তৈরির উপকরণ, প্যাকেটজাতকরণ সামগ্রী এবং বিভিন্ন ধরনের মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে মোরেলগঞ্জ থানা পুলিশ সিগারেট তৈরির কাজে ব্যবহৃত কিছু যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে।

অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম, কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট বিভাগের সহকারী কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন, মোরেলগঞ্জ থানার এসআই উত্তম কুমার, গ্রীন বাংলা টোবাকোর মালিক সোমনাথ দে এবং ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকোর স্থানীয় বিক্রয় প্রতিনিধি মাসুদ করিম টিটুসহ সংশ্লিষ্টরা।

গ্রীন বাংলা টোবাকোর মালিক সোমনাথ দে দাবি করেন, গত বছরের আগস্টের পর তার কারখানা থেকে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সিগারেট তৈরির মেশিন, যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল চুরি হয়ে যায়। 

এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

সেই নির্দেশনার আলোকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে কিছু মালামাল উদ্ধার করেছে বলে তিনি জানান। 

তার মতে, এখনও অনেক চোরাই মালামাল বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে রয়েছে এবং সেগুলোও উদ্ধার হওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে, স্থানীয় বিক্রয় প্রতিনিধি মাসুদ করিম টিটু অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্রাউন টোবাকো ইন্ডাস্ট্রিজে ডার্বি ব্র্যান্ডের সিগারেটের অবিকল নকল তৈরি করে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছিল।

তিনি দাবি করেন, অভিযানে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ সিগারেট সেই অবৈধ উৎপাদন কার্যক্রমেরই অংশ।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কারখানার পাশের গোয়ালঘরটি এসব পণ্য মজুদের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, অভিযানকালে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সিগারেট ও সংশ্লিষ্ট মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে এগুলো নকল ডার্বি সিগারেট বলে ধারণা করা হলেও বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান জানান, গ্রীন বাংলা টোবাকোর মালিকের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, অভিযানের সময় ক্রাউন টোবাকো ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক বদরুল আলম ভদ্দর কিংবা প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মচারীকে পাওয়া যায়নি। কারখানাটি তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগও সম্ভব হয়নি।

ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত এসআই উত্তম কুমার জানান, উদ্ধার হওয়া মালামালের মধ্যে গ্রীন বাংলা টোবাকো থেকে চুরি হওয়া কিছু যন্ত্রাংশ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। 

উদ্ধার অভিযান ও যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে উদ্ধারকৃত সব মালামালের প্রকৃত উৎস ও মালিকানা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নকল সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের অভিযোগ এবং চুরি হওয়া শিল্পকারখানার মালামাল উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা আলোচনা চলছে। 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।