শিরোনাম

এ কে এম রাশেদ শাহরিয়ার
ঢাকা, ১৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : দেশের সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (এফএফপি) আওতায় ১৫ লাখ ২ হাজার ৩৯৩ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করেছে সরকার। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এই তথ্য জানিয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, সরকারের বিপণন কর্মসূচিগুলোর (ওএমএস, ওএমএস-টিসিবি এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি) মাধ্যমে সাধারণত চাল ও আটা বিতরণ করা হয়।
সারা দেশে নিয়োগকৃত মোট ২ হাজার ৯৭৬ জন ডিলারের মধ্যে ১ হাজার ৯২৫ জন চাল এবং ১ হাজার ৯১ জন আটা বিক্রির জন্য নির্ধারিত রয়েছেন। চলতি অর্থবছরে ওএমএস-এর আওতায় এ পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৩ মেট্রিক টন চাল এবং ৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন প্যাকেটজাত ও খোলা আটা বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং প্রতি কেজি আটা ২৪ টাকা (খোলা) ও দুই কেজির প্যাকেট ৫৫ টাকা দরে সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।
টিসিবি কার্ডধারীদের মাঝে ওএমএস বিশেষ কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন বিভাগে এ পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৮৪ মেট্রিক টন চাল সফলভাবে উত্তোলন ও বিতরণ করা হয়েছে। ৫ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন চাল বরাদ্দের বিপরীতে এই কার্যক্রমের বাজেট ব্যালেন্স রয়েছে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৩১৬ মেট্রিক টন।
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (এফএফপি) আওতায় গ্রামাঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পরিচালিত এই কর্মসূচিতে সারা দেশে মোট ১০ হাজার ২৪৩ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে বর্তমানে ৮ হাজার ২৭৬ জন ডিলার সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। চলতি অর্থবছরে এই কর্মসূচির আওতায় বার্ষিক মোট ৯ লাখ ৫৯ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। ১০ লাখ মেট্রিক টন চালের বিশাল বরাদ্দের বিপরীতে এই কর্মসূচিতে বর্তমানে মাত্র ৪০ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন চালের বাজেট অবশিষ্ট রয়েছে।
চলতি অর্থবছরে সরকারের এই তিন বড় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে ১৮ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন চালের বার্ষিক বরাদ্দের বিপরীতে এ পর্যন্ত ১৫ লাখ ২ হাজার ৩৯৩ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে চালের মোট বাজেট ব্যালেন্স রয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬০৭ মেট্রিক টন।
এছাড়া ৫ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন গমের সমপরিমাণ আটার বাজেটের বিপরীতে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৪ মেট্রিক টন আটা বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে গমের সমপরিমাণ আটার বাজেট ব্যালেন্স রয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৬৬ মেট্রিক টন।
খাদ্য অধিদপ্তরের সরবরাহ, বণ্টন ও বিপণন বিভাগের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম খান বাসস’কে বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিতরণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। সরকার নতুন করে কোনও কর্মসূচি দিলে সেটাও আমরা শতভাগ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করব।
খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জামাল হোসেন বাসস’কে বলেন, সরকারের এসব কর্মসূচি সাধারণত নিম্নবিত্ত মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য পরিচালিত হয়। সরকার যেসব লক্ষ্য স্থির করেছিল তার প্রায় শতভাগ আমরা বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।
তিনি বলেন, নতুন অর্থ বছরের ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি আগামী আগস্ট থেকে শুরু হবে। তবে প্রস্তুতিমূলক কাজ জুলাইতে শুরু হবে। সরকারের অভিপ্রায় থাকলে আমরা জুলাইতেই শুরু করতে পারব। আমাদের সে ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বাসস’কে জানান, সরকার অত্যন্ত সফলভাবে ও সুশৃঙ্খল উপায়ে সাধারণ মানুষের কাছে ভর্তুকি মূল্যের খাদ্যশস্য পৌঁছে দিচ্ছে, যা দেশের খাদ্য বাজার স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও আমাদের এই কাজগুলো অব্যাহত থাকবে।