বাসস
  ০৫ জুন ২০২৬, ১৯:১৬

বাজেটে প্রাথমিক ও কারিগরি শিক্ষায় অগ্রাধিকার চায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা

শুক্রবার ডিআরইউ-এর সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘শিক্ষা অধিকার সংসদ’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা জরিপের ফলাফল ও সুপারিশমালা প্রকাশ করা হয়। ছবি: বাসস

ঢাকা, ৫ জুন, ২০২৬ (বাসস): আসন্ন জাতীয় বাজেটে দেশের শিক্ষা খাতের গুণগত ও কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে প্রাথমিক এবং কারিগরি শিক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

তাদের মতে, শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে প্রাথমিক স্তরের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। একই সাথে দেশের টেকসই মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির কমপক্ষে ৫ শতাংশ বা তার বেশি বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী।

আজ শুক্রবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-এর সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘শিক্ষা অধিকার সংসদ’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা জরিপের ফলাফল ও সুপারিশমালা প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জরিপের বিস্তারিত তথ্য ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন শিক্ষা অধিকার সংসদের সদস্য সচিব এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর)-এর সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন। এ সময় সংগঠনের পক্ষে আবু সাদাত মো. মোস্তানসির বিল্লাহ, মিসবাহুর রহমান আসিম, মাহফুজুর রহমান মানিক ও মাজহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম বাজেটকে সামনে রেখে এই জরিপটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দীর্ঘদিনের দাবি এবং বিগত সময়ের স্বল্প বরাদ্দ ও দুর্বল বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে আসতেই এই উদ্যোগ। গণতান্ত্রিক আবহে শিক্ষা বাজেট নিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার এবং বিশেষ করে শিক্ষাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের গবেষণালব্ধ মতামতকে নীতি-নির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দিতেই এই জরিপ পরিচালনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর সরাসরি অংশগ্রহণে এই জরিপটি পরিচালিত হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের শিক্ষার স্তরভিত্তিক বণ্টনে স্নাতক (অনার্স) পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন ৬১ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন ৩৬ শতাংশ।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একটি বড় অংশ অর্থাৎ ৫০ শতাংশ উত্তরদাতাই ছিলেন সরাসরি শিক্ষা, শিক্ষা প্রশাসন এবং শিক্ষা ও গবেষণা (আইইআর) বিষয়ের শিক্ষার্থী। এছাড়া ইংরেজি, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নেন।

জরিপটিতে দেশের ১৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, চারটি গ্র্যাজুয়েট লেভেলের মাদরাসা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। যার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এবং আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখযোগ্য।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, জরিপের ফলাফলে শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষাকে।

শিক্ষার্থীদের মতে, শিক্ষার ভিত্তি মজবুত না হলে উচ্চশিক্ষাসহ অন্যান্য স্তরে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষা এবং স্টেম শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর জোর দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জরিপে শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক ও গুণগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে উত্তরদাতারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতন নিশ্চিত করাকে। গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের শিক্ষার মানোন্নয়নে কেবল অবকাঠামো বা প্রযুক্তি নয়, বরং দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগকেই প্রধান শর্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তারা।

জরিপ প্রতিবেদনে শিক্ষা বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দুর্নীতি, অপচয়, সঠিক পরিকল্পনার অভাব এবং প্রশাসনিক জটিলতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা মনে করেন, কেবল বাজেটের পরিমাণ বৃদ্ধিই শেষ কথা নয়; বরং বরাদ্দের সুষ্ঠু ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই শিক্ষা খাতে টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীরা নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে এমন একটি শিক্ষা বাজেট প্রত্যাশা করেন যা শুধু ব্যয় বৃদ্ধি নয়, বরং গুণগত শিক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা, প্রযুক্তি এবং সুশাসনভিত্তিক শিক্ষা সংস্কারকে এগিয়ে নেবে।

আসন্ন বাজেটে তরুণ প্রজন্মের এই প্রত্যাশা ও সুপারিশগুলোর প্রতিফলন ঘটাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।