বাসস
  ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৫৩
আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ১৩:৪৬

বৈদ্যুতিক ঠিকাদারী লাইসেন্স কার্যক্রমকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে অনলাইনে আবেদন আহ্বান

ঢাকা, ১৩ জুন, ২০২৬ (বাসস) : বৈদ্যুতিক ঠিকাদারী লাইসেন্স প্রদান কার্যক্রমকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে অনলাইনে আবেদন গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে সরকারের বিদ্যুৎ লাইসেন্সিং বোর্ড। 

এ লক্ষ্যে ১৬তম ব্যাচের বৈদ্যুতিক ঠিকাদারী লাইসেন্সের জন্য আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের কার্যালয়ের অধীন বিদ্যুৎ লাইসেন্সিং বোর্ড থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, বৈদ্যুতিক ঠিকাদারী লাইসেন্স পেতে আগ্রহী সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। 

কোনো ধরনের সরাসরি বা ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আবেদন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরের মাধ্যমে সেবা গ্রহণকারীদের হয়রানি কমানো এবং দ্রুততার সঙ্গে আবেদন নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের প্রথমে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) সম্পন্ন করতে হবে।

রেজিস্ট্রেশনের সময় মোবাইল নম্বরে প্রেরিত ওটিপি যাচাইয়ের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা হবে। 

পরবর্তীতে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করে বৈদ্যুতিক ঠিকাদারী লাইসেন্সের আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।

লাইসেন্সের জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। 

এর মধ্যে রয়েছে বৈধ ট্রেড লাইসেন্সের অনুলিপি, ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) সনদের কপি, করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সনদের কপি, মালিক বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি এবং প্রতিষ্ঠানে কর্মরত লাইসেন্সপ্রাপ্ত একজন বৈদ্যুতিক সুপারভাইজারের সম্মতিপত্র। 

এছাড়া প্রয়োজনীয় পরীক্ষণ যন্ত্রপাতি ক্রয়ের প্রমাণপত্রও জমা দিতে হবে।

আবেদনপত্র পূরণের সময় প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত সব তথ্য যথাযথভাবে বাংলা ও ইংরেজিতে প্রদান করতে হবে। 

আবেদনকারীর ছবি, স্বাক্ষর এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।

আবেদনপত্রের তথ্য সঠিক বলে ঘোষণা দিয়ে তা সংরক্ষণ ও পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হতে হবে।

আরও উল্লেখ করা হয়েছে, লাইসেন্স ফি বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক অথবা ই-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। 

ফি জমা দেওয়ার পর ট্রেজারি চালানের তথ্য ও স্ক্যান কপি অনলাইনে সংযুক্ত করতে হবে।

পাশাপাশি নির্ধারিত সেন্টার ফি মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে।

আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘ফাইনাল সাবমিট’ করার আগে আবেদনপত্রের তথ্য ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। 

কারণ একবার ফাইনাল সাবমিট করা হলে পরবর্তীতে কোনো তথ্য সংশোধনের সুযোগ থাকবে না। 

সফলভাবে আবেদন সম্পন্ন হলে আবেদনকারীর ড্যাশবোর্ডে আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখা যাবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য এসএমএসের মাধ্যমেও জানানো হবে।

সাক্ষাৎকার বা পরীক্ষার সময় আবেদনকারীদের ট্রেড লাইসেন্স, বিআইএন, টিআইএন সনদ, সুপারভাইজার লাইসেন্স, ট্রেজারি চালানের মূল কপি এবং পরীক্ষণ যন্ত্রপাতি ক্রয়ের রসিদসহ সকল মূল কাগজপত্র প্রদর্শন করতে হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ লাইসেন্সিং বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, অনলাইনভিত্তিক এ ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে। 

একই সঙ্গে সেবাপ্রার্থীরা দেশের যেকোনো স্থান থেকে সহজেই আবেদন করতে পারবেন।

সরকারের ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৈদ্যুতিক ঠিকাদারী লাইসেন্স প্রদান কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।