শিরোনাম

বাগেরহাট, ৪ জুন, ২০২৬ (বাসস): সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে নিহত জেলেদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বগাভাষা গ্রামের ২০ জন নিহত জেলে পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী হাসান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংবাদ সংস্থা বাসসের বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি আজাদ রুহুল আমিন।
খাদ্য সহায়তার মধ্যে ছিল চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল, হলুদ, মরিচ, ধনিয়া, জিরাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী।
সহায়তা বিতরণকালে ইউএনও মো. আলী হাসান নিহত জেলেদের স্ত্রী ও কন্যাদের উদ্দেশে বলেন, ঘূর্ণিঝড় আইলা, সিডরসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ অঞ্চলের অসংখ্য জেলে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। অনেক পরিবার আজও তাদের স্বজনদের মরদেহ পর্যন্ত ফিরে পায়নি। এসব পরিবারের কষ্ট ও সংগ্রামের কথা প্রশাসন গভীরভাবে উপলব্ধি করে।
তিনি আরও বলেন, কেবল সাময়িক সহায়তা নয়, জেলে পরিবারগুলোর টেকসই আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রশাসন কাজ করবে। ইলিশ ধরা জাল তৈরির সুতা সরবরাহ, হাঁস-মুরগি পালন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং অন্যান্য আয়বর্ধক উদ্যোগের মাধ্যমে অসহায় জেলে পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলার চেষ্টা করা হবে।
ইউএনও বলেন, সমুদ্রগামী জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবহাওয়ার পূর্বাভাস মেনে চলা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে সাগরে না যাওয়ার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু শুধু একটি প্রাণহানি নয়, পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়।
নিহত জেলে পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের এ উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানমূলক সহায়তা অব্যাহত রাখার দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত গভীর রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় আকস্মিক ভয়াবহ ঝড়ে ৩৯ জন জেলের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
নিহতদের অধিকাংশ পরিবারের উপার্জনক্ষম কোনো পুত্র সন্তান নেই। দীর্ঘদিন ধরে এসব পরিবার নানা আর্থিক ও সামাজিক সংকটের মধ্যে জীবনযাপন করছে।