শিরোনাম

রোস্তম আলী মন্ডল
দিনাজপুর, ৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : জেলায় আজ দুপুর ৩টায় আবহাওয়া অধিদপ্তর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সাড়ে ৩টায় দিনাজপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন প্রেরিত এক বার্তায় জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত আবহাওয়ার দুপুর ৩টায় রেকর্ডকৃত তথ্য নিশ্চিত করেন।
সূত্রটি জানায়, গতকাল বুধবার দুপুরে সারাদেশের মধ্যে এ জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, দিনাজপুর জেলায় টানা ৪ দিনের মতো এধরণের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবনে চরম অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। প্রচ- তাপের কারণে দৈনন্দিন জীবন-যাত্রা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, শিশু ও বয়স্ক নাগরিকেরা। মাঠে কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন শ্রমজীবী, দিনমজুর, ভ্যানচালক ও রিকশাচালকরা। এতে তাদের দিন কাটছে খুবই কষ্টে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ১ জুন দুপুর ৩টায় দিনাজপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২ জুন একই সময় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল ৩ জুন বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এই জেলায় রেকর্ড করা হয় ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ৩ টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জেলায় চলমান পরিস্থিতিতে তাপদাহ বেশি থাকায় দুপুরের পর রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। অনেক এলাকায় দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত সড়ক প্রায় ফাঁকা দেখা গেছে। তীব্র রোদের কারণে অনেক স্থানে পিচঢালা সড়কে গলনের চিত্রও লক্ষ্য করা গেছে।
প্রচ- গরমে হিটস্ট্রোক, পানি-শূন্যতা, মাথা ঘোরা ও ক্লান্তিসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন বয়স্ক, শিশুসহ নানা বয়সের মানুষ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।
এদিকে প্রচন্ড গরমের কারণে জেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে বলে দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. আসিফ ফেরদৌস নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আমরা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সকল স্তরের জনসাধারণকে, পর্যাপ্ত পানি পান, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার এবং রোদে দীর্ঘক্ষণ না থাকার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
এ বিষয়ে দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, জেলা ও আশপাশের কয়েকটি জেলার উপর দিয়ে বর্তমানে একটি মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী ৫ জুন শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ৬ জুন থেকে এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকলেও রংপুর বিভাগের দু-একটি স্থানে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তাপপ্রবাহ চলাকালে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি নজর রাখা জরুরি। পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষদের নিরাপদ বিরতি, ছায়াযুক্ত স্থান এবং পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।