বাসস
  ০৩ জুন ২০২৬, ২০:১১

নীলফামারীতে বইছে মাঝারি তাপদাহ, কষ্ট পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ

ছবি : বাসস

 ভুবন রায় নিখিল

নীলফামারী, ৩ জুন, ২০২৬ (বাসস) : জেলায় টানা চার দিনের মাঝারি তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। কৃষক ও শ্রমিকরা প্রচণ্ড গরমে ক্ষেতে কাজ করতে পারছেন না। এ অবস্থা আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া কার্যালয়।

জেলার সৈয়দপুর আবহাওয়া কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ৩১ মে থেকে জেলায় মাঝারি তাপদাহ শুরু হয়। যা আজ বুধবার পর্যন্ত অব্যাহত আছে। এ সময়ে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি থেকে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা উঠানামা করছে।

আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন জেলার সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন পেশার মানুষজন। সকাল থেকে বিকেল পযন্ত সূর্য্যরে প্রখর উত্তাপ আর ভ্যাপসা গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে ক্ষেতখামারে খেটে খাওয়া মানুষ। এরইমধ্যে অনেক কৃষক ও কৃষি শ্রমিকরা জীবন জীবিকার তাগিদে কাজ করতে নামলেও মাঠে টিকতে পারছেন না খুব বেশি সময়। 

সরেজমিনে আজ বুধবার দুপুরে জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামে কয়েকজন শ্রমিককে দেখা গেছে ফসলের মাঠে পাকা ধান কাটতে। প্রখর রোদে তাদের প্রায় জীর্ণ অবস্থা। 

স্থানীয় আব্দুল মজিদ (৫২) বলেন, পাকা ধানের ক্ষেত পড়ি আছে। প্রচণ্ড ওদের (রোদ) তাপোত কাহো ক্ষেতোত টিকিবার পারেছে না। হামেরা (আমরা) কাম (কাজ) করেছি নিরুপায় হয়া। অসহ্য এ রোদে মাঠে কাজ করে অনেকে ডাইরিয়া, জ¦রসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

একই গ্রামের কৃষি শ্রমিক তফদ্দি মামুদ (৪০) বলেন, ১৬ জন এক সঙ্গে ধান কাটার কাজ করেছি। কিন্তু তাপদাহে সব সময় শরীর থেকে ঘাম ঝরে। এক বিঘা জমির ধান কাটি মজুরি পামো (পাবো) ৪ হাজার টাকা। কিন্তু এমন ওদোত কাম (কাজ) ফাবেছে (আগানো) না। একঘণ্টা পর পর গাছের ছায়াত দম নিবার (আরাম) লাগেছে।

চলমান এ তাপদাহে মাঠে পাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষকরা। সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বিশমুড়ি গ্রামের কৃষক মো. হাচান আলী (৪৫) বলেন, আমার সাড়ে ৩ বিঘা জমির পাকা ধান পড়ে আছে। চারদিন ধরে প্রখর রোদে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর বৃষ্টি নামলে ওই ধান নিয়ে আরও বিপদ হবে। ফলে অনেকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে ধান কেটে নিচ্ছে। বাজারে ধানের দাম কম, অপরদিকে খরচ বাড়ছে।

জেলার সৈয়দপুর আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লোকমান হাকিম জানান, আজ বুধবার বেলা ৩টায় ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রের্কড করা হয়। এসময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৪৫ শতাংশ। এর আগে গত ৩১ মে ও ১ জুন ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২ জুন ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

তিনি বলেন, জেলায় গত ৩১ মে থেকে টানা ৪ দিনের এ মাঝারি তাপদাহ চলছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ অবস্থা চলবে। শুক্র ও শনিবার বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।