বাসস
  ০৩ জুন ২০২৬, ১৭:৩৭

বরগুনায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

বরগুনা, ৩ জুন, ২০২৬ (বাসস): জেলার আমতলী উপজেলায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেপপিট ট্যাংকে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার একে স্কুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন, হলদিয়া গ্রামের আজিজ হাওলাদারের ছেলে জাহিদুল হাওলাদার (৩৫) ও বেতমোর গ্রামের ইউনুস মিয়ার ছেলে জাফর হাওলাদার (৫০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. ইউসুফ আলীর নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে বুধবার সকালে শ্রমিকরা কাজ শুরু করেন। কাজের একপর্যায়ে জাহিদুল হাওলাদার ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি চিৎকার শুরু করলে তাকে উদ্ধারের জন্য জাফর হাওলাদার নিচে নামেন। কিন্তু তিনিও বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস নিষ্ক্রিয় করা হয় এবং ট্যাংকের মুখ ভেঙে দুই শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত জাফর হাওলাদারের ভগ্নিপতি রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, ভবন মালিকের অসচেতনতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেব।

আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আবু হানিফ জানান, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে কার্বন মনোক্সাইডসহ বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকতে পারে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গ্যাস পরীক্ষা ছাড়ায় ভেতরে প্রবেশ করায় শ্রমিকরা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. লুনা বিনতে হক বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন বাসসকে বলেন, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।