শিরোনাম

ভোলা, ২৭ মে, ২০২৬, (বাসস) : সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ভোলার পাঁচ উপজেলার ১৭টি গ্রামের মানুষে ঈদুল আযহা উদযাপন করেছেন।
আজ বুধবার এসব এলাকার বিভিন্ন পীরের অনুসারী প্রায় ছয় হাজার পরিবার একদিন আগেই ঈদ উদযাপন করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৌদি আরবে ঈদুল আযহা উদযাপন হওয়ায় এর সঙ্গে মিল রেখে জেলার বিভিন্ন এলাকার এসব পরিবারে ঈদ শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, আজ সকাল ৮টায় জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নপর টবগী গ্রামে খলিফা মজনু মিয়ার বাড়ির আঙ্গিনায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তথ্যমতে, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরীফের পীরের মুরিদ ও ভোলা জেলার দায়িত্বে নিয়োজিত খলিফা মজনু মিয়া প্রায় সময়-ই সেখানে ঈদের জামায়াতের ইমামতি করতেন।
মজনু মিয়ার স্ত্রী জয়গুন বিবি বাসসকে জানান, বছর তিনেক পূর্বে তার স্বামীর মৃত্যুতে এবার ইমামতি করেছেন তারই ছেলে রাসেদুল ইসলাম বাবু।
একই সঙ্গে একই গ্রামের চৌকিদার বাড়ির জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের জামাতের ঈমামতি করেন সূরেশ্বর পীরের অপর মুরিদ মাওলানা সিহাবউদ্দিন। ওই গ্রামের পঞ্চায়েত বাড়ির জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ ছাড়া আজ সকাল ৮টা থেকে ৯ টার মধ্যে জেলার বিভিন্ন জায়গায় ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের জামাত শেষে পীরের অনুসারীগণ পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে ঈদুল আযহার পূর্ণতা সম্পন্ন করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ও রতনপুর গ্রাম, বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ও মুলাইপত্তন গ্রাম, তজুমদ্দিন উপজেলার শিবপুর, খাসেরহাট, চাঁদপুর ও চাঁচড়া গ্রাম, লালমোহন উপজেলার পৌর শহর, ফরাসগঞ্জ গ্রাম এবং চরফ্যাশন উপজেলার পৌর শহর, দুলারহাট, ঢালচর ও চর পাতিলা,চর কুকরী-মুকরী, চর বাসনভাঙ্গা গ্রামের প্রায় ছয় হাজার পরিবার সৌদী আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি বছর একদিন আগেই ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর পালন করে থাকেন।
সুরেশ্বর পীরের মুরিদ ছাড়াও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ভান্ডারি শরিফ পীরের মুরিদের পরিবারের সদস্যরা প্রায় দুইশ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগেই রোজা পালন, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা পালন করে আসছেন।
ভোলার পুলিশ সুপার মো.শহিদুল্লাহ কাউছার গণমাধ্যমকে জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলার যে কয়টি গ্রামে ঈদ আজ উদযাপন হচ্ছে-সেখানে বিভিন্ন পীরের অনুসারীদের জন্য স্থানীয় থানা পুলিশের সমন্বয়ে নিñিদ্র নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে নির্বিঘেœ ঈদুল আযহা উদযাপন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলেও জানান পুলিশের এ শীর্ষকর্তা।