শিরোনাম

রংপুর, ২৪ মে, ২০২৬, (বাসস) : জেলার পীরগঞ্জে কৃষককে হত্যা করে ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ রোববার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
এর আগে, গতকাল শনিবার রাতে রংপুর জেলা পুলিশের অভিযানিক দল একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
তারা হলেন, গাইবান্ধা পলাশবাড়ি চকবালা গ্রামের জামিরুল ইসলাম (৩২), বাঁশকাটা গ্রামের নুরুল আমিন (৬৮), বেড়াডাংগা গ্রামের আমিরুল ইসলাম সরদার (৫৫), গোবিন্দগঞ্জ পুরন্দুর গ্রামের সবদুল আকন্দ ওরফে শামিম (৩৪), সাদুল্ল্যাপুর কাবিলপুর সোনাতলা গ্রামের আনিছুর রহমান (৪০), জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আমলাপুকুর গ্রামের আব্দুল জলিল (৩৮) ও বগুড়ার মোকামতলা এলাকার আব্দুল ওয়াহাব ওরফে শফিকুল।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামের কৃষক মফিজার রহমান রাতে নিজের সেচ ঘরে বিএডিসির সেচ পাম্পের ট্রান্সমিটার পাহারা দিতেন।
গত ৭ মে সকালে সেচ ঘর থেকে তার পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দুর্বৃত্তরা ট্রান্সমিটার চুরি করার সময় পা বেঁধে মফিজার রহমানকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় থানায় পীরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের হলে আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। সেই তৎপরতা থেকে শনিবার ডাকাত জামিরুলকে পীরগঞ্জের খেজমতপুর পশ্চিমপাড়া তার শ্বশুর বাড়ি থেকে, জলিলকে জয়পুরহাট বাসস্ট্যান্ড থেকে, শামিমকে জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরানাপৈল গ্রামের ভাড়া বাসা থেকে, শফিকুলকে বগুড়ার মোকামতলা থেকে, নুরুল আমিন, আমিরুল ও আনিছুরকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পুলিশের কাছে মফিজার রহমানকে হত্যাসহ ট্রান্সফর্মার চুরির কথা স্বীকার করেছেন।
তাদের দেয়া তথ্যমতে, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস, সিএনজি, চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং তিনটি ট্রান্সফর্মারের ভেতরে থাকা তামার কয়েল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বলেন, কৃষক মফিজার রহমান হত্যাটি ছিল রহস্যজনক, চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস ঘটনা।
জেলা পুলিশের চৌকস অভিযানিক দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার ও চুরিতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি উদ্ধার করেছে।