শিরোনাম

/ ফারাজী আহম্মদ রফিক বাবন /
নাটোর, ২৪ মে ২০২৬ (বাসস) : অসহায় রেজাউল করিমের ভ্যানের চাকা ঘুরলেও দুঃখের চাকা যেন কিছুতেই ঘোরে না। জীবনের চাকাটা যেন হয়ে উঠেছে ‘দুঃখের দেশে দুঃখের নদী কাইন্দা বইয়া যায়’। আর তাই তার চার শিশু কন্যার কপালে ভাত জোটে না, জোটে ভাতের মাড়।
এ খবর জানামাত্র অসহায় ভ্যান চালকের পাশে দাঁড়িয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। তিনি রেজাউলের চার কন্যার জন্যে পাঠিয়েছেন ঈদ উপহার। গতকাল শনিবার (২৩ মে) রাত দশটায় প্রতিমন্ত্রীর এপিএস আব্দুস সালাম ভ্যান চালক রেজাউল করিমের স্ত্রী বন্যার হাতে মানবিক সহায়তা হস্তান্তর করেন।
নাটোরের লালপুর উপজেলার নবীনগর গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিমের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ভ্যান। স্যাঁতসেঁতে ছাপড়া ঘরে স্ত্রী, চার কন্যা ছাড়াও আছেন অসুস্থ বাবা-মা। দিন এনে দিন খাওয়া পরিবার তার। যেসব দিনে ভ্যানের যাত্রী কম, কিংবা পণ্য পরিবহন হয় না, সেসব দিনগুলো যেন দুঃখে ভরা নদী। অসহায় রেজাউল করিমের মনের আর্তি যেন আর্তনাদ করে উঠে ‘মন মাঝি তোর বৈঠা নে রে, আমি আর বাইতে পারলাম না’।
এই অবস্থায় মা তো আর বসে থাকতে পারেন না। তাই ভাত না জুটলেও চার শিশু কন্যার মুখে তুলে দেন ভাতের মাড়। শিরোনাম হয় গণমাধ্যমে।
বন্যা বলেন, ‘প্রথম কন্যা কুরছি (৬)র বয়স যখন ৪ বছর তখনই একসাথে ঘরে আসে তিন যমজ কন্যা। আমেনা, ফাতেমা ও সুমাইয়ার বয়স এখন দুই বছর। শ্বশুর-শ্বাশুড়িসহ আট সদস্যের পরিবার। উপার্জনের একমাত্র উপায় ঐ ভ্যান। রাত-দিন ভ্যান চালালেও অভাব যেন শেষ হয় না। এতগুলো মানুষের খাবার, ওষুধ জোগান দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। এক হাতে আর কত পারা যায়। শাশুড়ি আগে অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। অসুস্থতার কারণে এখন আর পারেন না। শ্বশুরও অসুস্থ।’
বন্যা বলেন, সংসারের এই অকুল পাথারে আমাদের বেটির (প্রতিমন্ত্রী) আর্থিক সহায়তা বাড়িতে ঈদের আনন্দ এনে দিয়েছে। আমাদের প্রিয় চার কন্যার জন্যে পোষাক আর খাবার কিনতে পারবো। আল্লাহ আমাদের বেটিকে ভালো রাখুন।
রেজাউল করিমের প্রতিবেশী নাটোর জজকোর্টের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম জানান, আমরা সাধ্যমতো সহযোগিতা করার চেষ্টা করি ভাঙা চাচার (ভ্যান চালক রেজাউল করিমের বাবা) পরিবারকে। তবে সরকারি কোন স্থায়ী সহায়তা পেলে তাদের উপকার হবে।
কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে হাবিবা খানম বলেন, চার কন্যার মাকে কোন প্রশিক্ষণ প্রদান করে উপার্জনক্ষম করতে পারলে ঐ পরিবারে স্বস্তি ফিরে আসবে। এ ব্যাপারে সরকারি কোন দপ্তর, কোন বিত্তবান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসতে পারে।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বাসসকে বলেন, ‘ভ্যান চালকের চার কন্যার জন্যে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া অনেক প্রশান্তির। আগামীতে ঐ পরিবারের উপার্জনক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান। আর সেজন্য আমরা সাধ্যমতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই।’