বাসস
  ২১ মে ২০২৬, ২১:৫৫

চট্টগ্রামের বড় প্রকল্পগুলোর কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে : গণপূর্তমন্ত্রী

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। ছবি: বাসস

চট্টগ্রাম, ২১ মে, ২০২৬ (বাসস) : গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো বড় প্রকল্পগুলোর কাজ শতভাগ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। 

তিনি বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পগুলো গত আট-দশ বছর ধরে টানছে। এখন এগুলোর সমাপ্তি দরকার, যেন জনগণ এর পুরোপুরি সুফল ভোগ করতে পারে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আজ এসব কথা বলেন। এসময় সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম উপস্থিত ছিলেন। 

চট্টগ্রামের বড় বড় প্রকল্পগুলোর প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে আছে জানিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, কিন্তু ছোট ছোট কিছু ‘বটলনেক’ বা জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষ শতভাগ সুফল পাচ্ছে না। আমার এবারের চট্টগ্রাম সফরের মূল উদ্দেশ্যই হলো এই আটকে থাকা কাজগুলোর সমাধান করা।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে তাদের অংশের কাজ শেষ করার আশ্বাস মিলেছে। এছাড়া ফ্লাইওভারের র‌্যাম্পের কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও তা সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প নিয়ে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের (৩৪ ইসিবি) বরাতে মন্ত্রী জানান,  এরইমধ্যে এই প্রকল্পের কাজ ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। আশা করছি, এই বর্ষাতেই জনগণ এর সুফল পেতে শুরু করবে।

খ-িতভাবে সিডিএ’র জলাবদ্ধতা প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় প্রকল্পের সুফল নিয়ে আশঙ্কা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের কাজ নিয়ে আমি আশাবাদী। সিডিএ’র পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনও ২১টি ছোট ছোট খাল নিয়ে কাজ করছে। এটি একটি সমন্বিত প্রয়াস। যদি কোনো ত্রুটি থেকেও থাকে, তবে সেগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে।

সিডিএ থেকে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে  গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে ‘অ্যাবসলিউটলি জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা) থাকবে। আগে শুধু আর্কিটেকচারাল ড্রয়িং দিয়ে প্ল্যান পাস হতো। এখন আমরা আর্কিটেকচারাল, স্ট্রাকচারাল, ইলেকট্রোমেকানিক্যাল ও প্লাম্বিং- সব মিলিয়ে কমপ্লিট প্ল্যান একসঙ্গে সাবমিট করার ব্যবস্থা করছি।

অনুমোদিত নকশা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, কাজ শেষ হওয়ার পর আমরা অকুপেন্সি সার্টিফিকেট (বসবাস উপযোগী সনদ) দেব। প্ল্যানের কোনো প্রকার ব্যত্যয় ঘটলে এই সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না। আর অকুপেন্সি সার্টিফিকেট ছাড়া ভবনে গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানির মতো কোনো ইউটিলিটি সংযোগ দেওয়া হবে না।
অতীতে আইন অমান্য করে গড়ে ওঠা ভবনগুলোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র তিন মাস। অতীতে কী ঘটেছে তা নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। তবে যারা অতীতে প্ল্যানের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন, তাদেরকে কীভাবে আইনের আওতায় আনা যায়, তা আমরা খতিয়ে দেখব।

চট্টগ্রাম সফরকালে এর আগে সকালে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।