শিরোনাম

ঢাকা, ২১ মে, ২০২৬(বাসস): মালদ্বীপের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি সংখ্যক চিকিৎসক, থেরাপিস্ট, নার্স এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালদ্বীপ সরকার।
একই সাথে দেশটি বাংলাদেশ থেকে সরকারি পর্যায়ে সরাসরি উচ্চমানের ওষুধ আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গিলা আলীর সাথে মালেতে অবস্থিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে এই আগ্রহের কথা জানানো হয়।
অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মালদ্বীপের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আজ বৃহস্পতিবার মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গিলা আলী জানান, তার দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বর্তমানে থেরাপিস্টসহ বিশেষায়িত স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবা সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৫০ জন থেরাপিস্ট প্রয়োজন।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘মালদ্বীপ সরকার বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি চিকিৎসক ও থেরাপিস্ট নিয়োগ করতে অত্যন্ত আগ্রহী।’
হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম এ বিষয়ে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘বাংলাদেশি থেরাপিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়টি ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে দাপ্তরিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দ্রুতই একদল দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী মালদ্বীপে যোগ দেবেন।
সাক্ষাৎকালে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের অভূতপূর্ব অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে বাংলাদেশ থেকে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) ভিত্তিতে সরাসরি মানসম্মত ওষুধ আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের আন্তর্জাতিক মান ও উৎপাদন সক্ষমতা সরেজমিনে যাচাই করতে মালদ্বীপের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে বলেও মন্ত্রী বৈঠকে জানান।
সাক্ষাৎ পরবর্তী আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান স্বাস্থ্য সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নবায়ন ও আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী গিলা আলী মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশে মেডিকেল ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়ায় ধন্যবাদ জানান। এই দিকে লক্ষ্য রেখে, হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম অবহিত করেন যেÑবাংলাদেশ সরকার বর্তমানে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক কোটার অধীনে মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য ৭টি পূর্ণ অর্থায়িত শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছে।
তিনি মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের সাশ্রয়ী ও আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বৈঠকে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের আর্থ-সামাজিক অবদানের প্রশংসা করেন। একই সাথে অবৈধ বা কাগজপত্রহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে আইসিইউ (আইসিইউ) সেবাসহ অন্যান্য ব্যয়বহুল জরুরি মানবিক চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করেন।
উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে কৌশলগত স্বাস্থ্য সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মালদ্বীপস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ও ওষুধ আমদানির বিষয়টি নিবিড়ভাবে সমন্বয় করবে বলে জানানো হয়েছে।