বাসস
  ১৩ মে ২০২৬, ২১:৩৮
আপডেট : ১৩ মে ২০২৬, ২১:৪১

বাংলাদেশের জাহাজভাঙা শিল্প অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত : জার্মান রাষ্ট্রদূত

আজ বুধবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পিএইচপি শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ। ছবি : বাসস

চট্টগ্রাম, ১৩ মে, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশের জাহাজভাঙা শিল্পকে একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেছেন, বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের জাহাজভাঙা শিল্প গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করেছে।

আজ বুধবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পিএইচপি শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। হংকং কনভেনশন অনুযায়ী এটি বাংলাদেশের প্রথম সুরক্ষামূলক গ্রিন শিপইয়ার্ড । 

এর আগে পিএইচপি শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহিরুল ইসলামকে সাথে নিয়ে রাষ্ট্রদূত শিপইয়ার্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং শ্রমিক কল্যাণ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ তাকে ইয়ার্ডের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন অর্জনের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে অবহিত করে।

জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, জাহাজভাঙা শিল্প বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এ শিল্প দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক অবদান রাখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খাতটি বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। তবে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে জাহাজভাঙা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং শ্রমিকদের জন্য বীমা সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, গ্রিন শিপইয়ার্ডে পরিবেশ সুরক্ষা এবং শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মালিক পক্ষের নানা উদ্যোগ এবং প্রচেষ্টা দেখে আমার ভালো লেগেছে। দীর্ঘদিন ধরে জাহাজভাঙা শিল্প পরিদর্শনের অপেক্ষায় ছিলাম। আমি আশা করব, হংকং কনভেনশনের আলোকে সবগুলো শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড নিজেদের গ্রিন শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে।

পিএইচপি শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, গত এক দশকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিবেশ সম্মতির জন্য আমরা ১৪ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছি। বিশ্বখ্যাত এমওএল ও এনওয়াইকে’র জাহাজগুলো কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই আমরা সফলভাবে রিসাইকেল করেছি।

তিনি বলেন, বাণিজ্যিক সফলতার পাশাপাশি আমরা বিশ্বাস করি, টেকসই উন্নয়ন ও মানবিক দায়িত্ব একসাথে এগিয়ে নিতে হয়। দীর্ঘ এই পথচলা আমাদের সেই দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। এই মাইলফলক পরিবেশগত তত্ত্বাবধান, আন্তর্জাতিক সম্মতি এবং শ্রমের মর্যাদার প্রতি আমাদের অটল প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে। আমরা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশ্বব্যাপী দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরে গর্বিত।

এ সময় জার্মান দূতাবাসের কালচারাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার সৈয়দা জারিন রাফা, অনারারি কনসাল মির্জা সাকির ইস্পাহানি ও পিএইচপি শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।