বাসস
  ১১ মে ২০২৬, ২০:৩৯

যখন খুশি ওষুধের দাম বাড়ানো যাবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। ছবি: বাসস

ঢাকা, ১১ মে, ২০২৬ (বাসস): দেশের ওষুধ শিল্পের টেকসই উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দাম নিশ্চিত করতে ওষুধ মালিক ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, ‘শিল্পের স্বার্থ রক্ষা করা যেমন জরুরি, তেমনি যখন-তখন ওষুধের দাম বাড়িয়ে জনগণ ও সরকারকে বিপদে ফেলা যাবে না।’

আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ‘বেসরকারি খাতের সাথে অংশীজন পরামর্শ সভা: স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও বিশ্ব ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। 

ওষুধের দাম নির্ধারণের বিষয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে এম এ মুহিত বলেন, ওষুধ কোম্পানিগুলো অবশ্যই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, তাদের মুনাফার প্রয়োজন আছে। অন্য সব কিছুর দাম বাড়লেও ওষুধের দাম বছরের পর বছর আটকে রাখা যেমন ঠিক নয়, তেমনি আমরা এমন কোনো নীতিমালাও চাই না, যার ফলে যখন খুশি ওষুধের দাম বাড়িয়ে ফেলা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, এমন একটি ভারসাম্য বজায় রাখা যাতে জনগণ এবং সরকার কোনোভাবেই বিপদে না পড়ে।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি গণতান্ত্রিক সরকার। জনগণের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। আমরা চাই মানুষকে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ নিশ্চিত করতে। আপনাদের সমস্যাগুলো আমরা বুঝি এবং সেগুলো দ্রুত ফয়সালা করতে চাই। যদি আমরা সম্মিলিতভাবে সমাধান না করি, তবে ইন্ডাস্ট্রি ও দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা মাত্র আড়াই মাস হলো সরকার গঠন করেছি। দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা দেখেছি স্বাস্থ্য খাতের সব জায়গায় একটা ভগ্নদশা বিরাজ করছে।

দেশের হাসপাতালগুলোর বেহাল চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত ৫-৭ বছর ধরে অনেক হাসপাতালের ন্যূনতম মেইনটেন্যান্স হয়নি। কোথাও বিল্ডিং আছে তো যন্ত্রপাতি নেই, কোথাও আবার ওষুধের সংকট। এই বিশাল চ্যালেঞ্জের মধ্যেই আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতি, যা আমাদের জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল এ টি এম ইসলামসহ বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন প্রতিনিধি, ওষুধ শিল্পের মালিকগণ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।