শিরোনাম

হবিগঞ্জ, ৯ মে, ২০২২৬ (বাসস) : গত কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আবারও ফিরতে শুরু করেছে কর্মচাঞ্চল্য।
কয়েক দিন ধরে আকাশ পরিষ্কার থাকায় এবং রোদের দেখা মিলতেই কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা মাঠে নেমে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন পানিতে তলিয়ে থাকা অবশিষ্ট বোরো ধান ঘরে তুলতে।
জেলার বিভিন্ন হাওর ও নিচু এলাকায় ইতোমধ্যে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
এতে বছরের একমাত্র ফসল হারানোর শঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। তবে আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন তারা।
কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটানা বৃষ্টির কারণে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজ বন্ধ ছিল। বর্তমানে টানা ৪ থেকে ৫ দিন বৃষ্টি না হওয়ায় মাঠে ব্যস্ততা বেড়েছে।
অনেকে ইতোমধ্যে ধান কেটে ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে এখনো অনেক কৃষক অবশিষ্ট ধান কাটতে হিমশিম খাচ্ছেন।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল গ্রামের কৃষক হাসমত আলী বাসস’কে জানান, কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ধান তলিয়ে গেছে। তবে কয়েকদিন ধরে রোদ থাকায় ধান কাটা ও মাড়াই করতে পারছি। আরো কয়েকদিন রোদ পেলে ধান শুকানো সহজ হবে।
বানিয়াচং উপজেলার সুনারু গ্রামের কৃষক রহমত আলী বাসস’কে জানান, পাহাড়ি ডলে অনেক ধান তলিয়ে গেলেও এখন রোদের কারণে যা পেয়েছি তা শুকাতে কাজ করছি।
হবিগঞ্জ কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার পাল বাসস’কে বলেন, উঁচু ও নিচু জমি মিলিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২৩ হাজার কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং বাকিদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবি) নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বাসস’কে বলেন, বর্তমানে জেলার সব নদ-নদীর পানি বিপদসীমার অনেক নিচে রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং আরও এক সপ্তাহ রোদ অব্যাহত থাকলে কৃষকরা বাকি ধান ভালোভাবে কেটে ঘরে তুলতে পারবেন।