শিরোনাম

রোস্তম আলী মন্ডল
দিনাজপুর, ৯ মে, ২০২৬ (বাসস) : জেলার ১৩টি উপজেলার কৃষকেরা চলতি মৌসুমে মহা উৎসবে তাদের অর্জিত ইরি-বোরো পাকা ধান কাটা মাড়াই কাজ শুরু করেছে।
জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন এই তথ্য আজ শনিবার সকালে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন গত এক সপ্তাহ থেকে জেলার ১৩ টি উপজেলায় কৃষকেরা তাদের অর্জিত ইরি-বোরো পাকা ধান পুরোদমে কাটা মাড়াই কাজ শুরু করেছে। মৌসুমের শেষ পর্যায়ে ফসলের অবস্থা খুব ভালো রয়েছে।
গত বছরের তুলনায় এবারের জেলায় ইরি- বোরো বাম্পার ফলন হয়েছে। আগাম জাতের ধান পেকেছে। ধানকাটা নিয়ে কৃষকেরা ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন।
তিনি বলেন, জেলার ১৩ টি উপজেলায় কৃষকদের গত দু'বছরে অর্ধেক ভর্তুকি মূল্যে আধুনিক ধান কাটার হারভেস্ট মেশিন দেড় হাজার সরবরাহ করা হয়েছে। এই ধান কাটার মেশিন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০ একর জমির ধান কাটা ও মাড়াই একই সাথে করা যায়। ফলে ধান কাটার জন্য কৃষকদের শ্রমিক নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে না।
ধানের জমিতে ধান কর্তনের পর একই সাথে মাড়াই করে ধান বস্তায় ভরা হয়। এ আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন ব্যবহারে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই পাকা ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে। কৃষকরা সহজেই স্বল্প খরচে ধান কাটা ও মাড়াই করতে পেরে খুব খুশি। এছাড়া ধান কাটা মাড়াইয়ের জন্য ছোট বড় অনেক ধরনের আধুনিক মেশিন কৃষকদের নাগালে এসেছে। কৃষকরা এসব মেশিন ব্যবহারে ধান কাটা ও মাড়াই করতে পারছেন। এভাবে ধানের জেলা দিনাজপুরে এখন মহা উৎসবে ইরি-বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ চলছে।
একই সাথে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ধানের জমিতে ধান মাড়াই এর পর খড় শুকানো সম্ভব হচ্ছে। শুকনো খড় কৃষকরা সহজেই মাঠ থেকে বাড়িতে নিয়ে আসতে পারছেন। গবাদি পশু পালনের জন্য খড়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কৃষকদের নিজেদের চাহিদা পূরণের পর অবশিষ্ট খড় ভালো দামে বিক্রি করতে পারছেন। গবাদি পশুদের জন্য উত্তম খাবার এ খড় প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, গতকাল ৮ মে,শুক্রবার পর্যন্ত জেলায় প্রায় ১৫ ভাগ ধান কাটা মাড়াই হয়েছে ।
চলতি বছর ইরি-বোরো ধান মাঠে প্রায় অর্ধেক পেকে গেছে। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটার আগেই মাঠের ধান -কেটে ঘরে তুলতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চলতি মে, মাসের' মধ্যে মাঠের সব ধান কাটা-মাড়াইয়ের তাগিদ দিয়ে কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীরা কৃষকদের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
ধান কাটার জন্য জেলার প্রত্যেকটি উপজেলায় কৃষি বিভাগ ভর্তুকির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ধান কাটার আধুনিক মেশিন কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। যার সুফল কৃষকরা পাচ্ছেন।
কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক বলেন, এবার দিনাজপুর জেলার ইরি- বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
জেলার সদর উপজেলার মাছিমপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম ও জিয়াউল ইসলাম জানান, মাঠের ধান পেকেছে, তারা ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করে দিয়েছেন। খুব স্বল্প সময়ে পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন।
জেলার হাকিমপুর উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তা মিজ আরজিনা বেগম জানান, ইরি, বোরো ধানের মাঠ গুলো ঘুরে দেখো গেছে ,মাঠের অধিকাংশ ধান পেকেছে। কৃষকেরা ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করেছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে জমিতে থাকা পাকা ধান ঘরে তুলতে পারবেন।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান (প্রশিক্ষণ ও শস্য) জানান, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩ টি উপজেলায় ১ লাখ ৭২ হাজার ২৫০হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অতিরিক্ত ২ হাজার ৪৫০ হেক্টরে ধান চাষ অর্জিত হয়ে মোট এক লাখ ৭৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে ধানের ফলন অর্জিত হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন চাল। আশা করা হচ্ছে এবারে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৮ লাখ মেট্রিক টন ছড়িয়ে যাবে।