শিরোনাম

নেত্রকোণা, ৪ মে ২০২৬ (বাসস): জাতীয় সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী তৃণমূলে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম রোধে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন।
তিনি আজ নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আকস্মিক পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেও এক শিক্ষকের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আজ সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের বানিয়াগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
ড. হিলালী বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সব শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। এ ধরনের অনিয়ম রোধে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে।’
জানা যায়, বানিয়াগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। সকালে সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী হঠাৎ বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে যান এবং শিক্ষকদের হাজিরা খাতা তলব করেন। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৬ জন শিক্ষকের মধ্যে হাজিরা খাতায় ৫ জনের স্বাক্ষর থাকলেও সশরীরে উপস্থিত ছিলেন ৪ জন। একজন শিক্ষক আগে থেকেই ছুটিতে ছিলেন।
তবে শিক্ষক হেলেনা আক্তার সকালে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেও বিদ্যালয় চত্বর বা শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন। স্বাক্ষর করে কর্মস্থল থেকে চলে যাওয়ার বিষয়টি সংসদ সদস্যের পরিদর্শনে হাতে-নাতে ধরা পড়ে। ড. হিলালী বিদ্যালয়ের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করে মন্তব্যের ঘরে ‘শিক্ষক হেলেনা আক্তার হাজিরা বইয়ে স্বাক্ষর করেও বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন’ উল্লেখ করেন।
শিক্ষকদের এমন দায়িত্বহীন আচরণ দেখে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে হিলালী বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও বেতন-ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে গুরুত্বের সাথে কাজ করছে, যাতে শিক্ষকরা দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে পাঠদান করতে পারেন। মাঠপর্যায়ে এসে এমন অনিয়ম ও ফাঁকিবাজি অত্যন্ত হতাশাজনক।’
তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদাহরণ টেনে উপস্থিত শিক্ষক ও স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী যদি সকাল ৯টায় নিজের দপ্তরে উপস্থিত হয়ে নিয়ম মেনে অফিস করতে পারেন, তবে শিক্ষকরা কেন সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে পারবেন না?