শিরোনাম

শাহজাহান নবীন
ঝিনাইদহ, ৩ মে, ২০২৬ (বাসস) : জেলার প্রান্তিক গ্রামীণ বাজারগুলোতে বা পাইকারি পর্যায় মৌসুমি শাক-সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাতের কারণে গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে কিছু কিছু সবজির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা বাড়লেও পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও আলুর দাম কমেছে।
এদিকে জেলা শহর ও উপজেলা শহরের বাজারগুলোতে শাক-সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। এতে গ্রামাঞ্চলের ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও শহরে বসবাসকারী ভোক্তাদের খরচ বাড়ায় পড়েছেন বিপাকে।
সরেজমিনে শহরের নতুন হাটখোলা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, জেলা শহরের পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচ, পটল, বেগুন ও ঢ্যাঁড়সসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। তবে জেলার গ্রামীণ বাজারগুলোতে সবধরণের সবজির দাম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাইকারি, খুচরা বিক্রেতা ও ভোক্তারা।
জানা গেছে, জেলা ও উপজেলার শহরতলীর বিভিন্ন বাজারে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি পটল ৩০/৩৫ টাকা, বেগুন ৪০/৪৫ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০/৬০ টাকা, পেঁয়াজ (দেশি) ৩০/৩৫ টাকা, হাইব্রিড পেঁয়াজ ৩০/৩২ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩৫/৪০ টাকা, পুঁইশাক প্রতি আটি ২০/২৫ টাকা, ডাটা শাক প্রতি আটি ১৫/২০ টাকা, করোলা (উঁচ্ছে) ৫০/৬০ টাকা, ঝিঁঙে ৩৫/৪০ টাকা, কাঁচাকলা প্রতি হালি ২৫/৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে বৃষ্টিপাতের কারণে এসব সবজির দাম শহরের বাজারগুলোতে কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। দাম বাড়লেও তা ভোক্তার নাগালেই রয়েছে বলে বিক্রেতা ও সবজি ব্যবসায়ীরা জানান।
এদিকে জেলার প্রান্তিক গ্রামীণ বাজারগুলোতে চলতি সপ্তাহে প্রতি কেজি পটল ৩৫/৪০ টাকা, বেগুন ৪৫/৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৪৫/৫০ টাকা, পেঁয়াজ ( দেশি) ৩০/৩২ টাকা, হাইব্রিড পেঁয়াজ ২৫/২৮ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০/৩৫ টাকা, পুঁইশাক প্রতি আটি ১৫/২০ টাকা, করোলা/উঁচ্ছে ৪০/৪৫ টাকা, ঝিঁঙে ৩০/৩৫ টাকা, কাঁচকলা প্রতি কেজি ২৫/৩০ টাকা, টমেটো ৫০/৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সদর উপজেলার হলিধানী বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা সবুজ হোসেনের সঙ্গে আলাপকালে বাসস’কে বলেন, শহরের আড়তগুলোতে সবজির আমদানি কিছুটা কম। এ ছাড়া আকস্মিক বৃষ্টিপাতের ফলে কৃষক সময় মতো সবজি তুলে বাজারে আনতে পারছেন না। তাই দাম কিছুটা বাড়ছে। তবে শহরের বাজারের চেয়ে সব ধরণের শাক-সবজির দাম গ্রামাঞ্চলের বাজারে কেজি প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা কম।
শাহাদত আলী নামে আরেক ব্যবসায়ী বাসস’কে বলেন, শাক-সবজির যে পরিমাণ দাম বেড়েছে, তাতে ভোক্তাদের তেমন একটা বিড়ম্বনার কারণ হচ্ছে না। প্রতি বছর মে-জুন মাসে সবজির দাম আরও চড়া থাকে। এ সময় বৃষ্টিপাতের কারণে দাম কিছুটা বাড়ে। তবে আগামী সপ্তাহেই আবার শাক-সবজির দাম কমে যেতে পারে। কাঁচামাল তো, তাই দাম উঠানামা করে।
আঞ্জুমান আরা নামে এক ক্রেতা বাসস’কে বলেন, গতকাল শনিবার গ্রামের একটি বাজার থেকে সবজি কিনেছি। শাক সবজির দাম গ্রামের বাজারে অনেক কম। শহরের বাজারে দাম কিছুটা বাড়লেও তা সহনীয় পর্যায় এখন পর্যন্ত রয়েছে। এর চেয়ে বেশি হয়ে গেলে ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়বে।
অপরদিকে জেলার সব এলাকায় বেড়েছে মাছ, মুরগির দাম। কোথায়ও কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গরু ও ছাগলের মাংস বিক্রির খবরও পাওয়া গেছে। এতে পরিবারের সদস্যদের আমিষের চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোক্তারা। তবে ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে জেলার সব বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২০০/২২০ টাকা, ফার্মের মুরগি ( সোনালি/পাকিস্তানি) প্রতি কেজি ৩০০/৩২০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০/৭৬০ টাকা, ছাগলের মাংস ১১৫০/১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া সদর উপজেলার হলিধানী, ডাকবাংলা বাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকার বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গরু ও ছাগলের মাংস। কোথাও কোথাও ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
এদিকে, জেলার সবগুলো মাছের বাজারেও বেড়েছে দাম। গত সপ্তাহে যেসব মাছ কেজি প্রতি ১৬০/১৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা চলতি সপ্তাহে কেজি প্রতি ১৮০/২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কার্প জাতীয় সাদা মাছের দাম আকারভেদে কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
খুচরা মাছ বিক্রেতা সুকেশ কুমার বাসস’কে বলেন, যে মাছ গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি, তা এখন ১৫০/১৬০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজারে মাছের যোগান কম। আড়তে মাছ কম আসায় দাম সবসময় উঠানামা করে। আগামী সপ্তাহে হয়তো দাম কমতেও পারে।
শহরের ওয়াপদা বাজারের মাছ বিক্রেতা শফি উদ্দিন ও ফরিদ হোসেন বাসস কে জানান, দেশি মাছের যোগান নেই বললেই চলে। বাজারে এখন কার্প জাতীয় সাদা মাছের আমদানি বেশি, তবে তা চাহিদার তুলনায় কম। মাছের পেট এখন ডিমে ভরা।
সানজিদ হাসান নামে এক ক্রেতা বাসস কে বলেন, সবজির দাম স্বাভাবিক আছে। তবে মাছ, মুরগি কিনতে গেলে পকেট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। ডাল ডিম দিয়ে প্রোটিনের চাহিদা মেটানো ছাড়া উপায় নেই।
মাছের আড়তদাররা বাসস’কে জানান, আড়তে মাছের সরবরাহ কম ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে তার প্রভাব পড়েছে। দু একদিনের ভেতরেই মাছের দাম স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলেও জানান তারা।
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের বাসস’কে বলেন, বৃষ্টিপাতের কারণে বাজারে শাক-সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে তা সহনীয়। মাছের দাম তো সবসময় উঠানামা করে। মাছের দাম বেড়েছে বলে আমরা মনে করিনা। এটি যেকোনো সময় কমে যেতে পারে। গরু-ছাগলের মাংস বিক্রির জন্য সরকারি ভাবে দাম নির্ধারণ করে দেয়া আছে। বেশি দামে মুরগিসহ অন্যান্য মাংস বিক্রির খবর পেলেই আমরা অভিযান চালাবো।
তিনি আরও বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সব সময় বাজার মনিটরিং অব্যাহত রেখেছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।