শিরোনাম

ঠাকুরগাঁও , ২১ এপ্রিল ২০২৬ (বাসস): মিষ্টি কুমড়ার মাঠে মৌচাষে মধুচাষীদের সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়।
বিসিক বাঁশেরহাট (দিনাজপুর) কার্যালয়ের মৌমাছি পালন কর্মসূচির অধীনে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়ধাম এলাকায় মিষ্টি কুমড়ার মাঠগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে মৌ বক্স স্থাপন করা হয় । বিসিক ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের উপ ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান এবং পরিবেশ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁওয়ের সহকারী পরিচালক তামিম হাসান আজ এই মৌ খামার পরিদর্শন করেন
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তামিম হাসান বলেন, ‘মৌ বক্স স্থাপনের ফলে মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়ন বৃদ্ধি পাবে, যা মিষ্টি কুমড়ার ফলন বাড়াতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি এটি স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।’
বিসিকের উপ ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান জানান, ১৯৭৭ সালে প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে প্রথম বিজ্ঞানসম্মতভাবে মৌচাষ শুরু হয়। বর্তমানে কুমিল্লা, গাজীপুর, দিনাজপুর, বরিশাল, সিলেট ও বাগেরহাটে বিসিকের ৬টি মধু উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে মৌ বক্স ও মধু সংগ্রহের সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। এছাড়া মৌচাষিদের স্বল্প সুদে ঋণ এবং উৎপাদিত মধু বাজারজাতকরণে মেলার আয়োজন করে বিসিক।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশের একমাত্র সরকারি মধু প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্টটি ঢাকার ধামরাই শিল্পনগরীতে অবস্থিত। তবে ঠাকুরগাঁও অঞ্চলে কোনো প্ল্যান্ট না থাকায় চাষিরা কাঁচা মধু কম মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে অনেক সময় মধু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে ঠাকুরগাঁওয়ে বাস্তবায়নাধীন ৫০ একরের ‘বিসিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী’ বড় ভূমিকা রাখবে। সেখানে ইতোমধ্যে অনেক উদ্যোক্তা মধু প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য প্লট নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

মৌচাষের আধুনিকায়নে বিসিকের নতুন প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে হাফিজুর রহমান বলেন, ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বড় পরিসরে বিসিকের প্রকল্প চললেও বর্তমানে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চলছে। নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে ধামরাইয়ের প্ল্যান্টের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আরও একটি নতুন প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া উন্নতমানের মধুর পাশাপাশি রয়েল জেলি, বি-ভেনম ও পোলেন উৎপাদনের মাধ্যমে মৌচাষিদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব।
আধুনিক প্রযুক্তি ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ অঞ্চলে মৌচাষে বিপ্লব ঘটবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন।