বাসস
  ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:১৪

চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসিতে এবার অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ শিক্ষার্থী

ছবি : বাসস

চট্টগ্রাম, ২০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় এবার মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এদের মধ্যে ছাত্র ৫৬ হাজার ৩২৫ জন এবং ছাত্রী ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা-তিনটি বিভাগের শিক্ষার্থীরাই এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা। বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে সকাল ১০টায় লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে এবং অন্যান্য বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহন চলবে ২০ মে পর্যন্ত। লিখিত অংশ শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ব্যাবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বিভাগ ভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রাম বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেবে ছাত্র ১৫ হাজার ৪৩৪ জন ও ছাত্রী ১৯ হাজার ৫৪৬ জন, মানবিকে ছাত্র ১৩ হাজার ৭৩১ জন ও ছাত্রী ৩০ হাজার ২২৭ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছাত্র ২৭ হাজার ১৬০ জন ও ছাত্রী ২৪ হাজার ৫৭০ জন।

জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলায় (মহানগরসহ) পরীক্ষার্থীদেও মধ্যে ছাত্র ৪০ হাজার ১৮৪ জন ও ছাত্রী ৫২ হাজার ১১২ জন। কক্সবাজার জেলায় ছাত্র ৭ হাজার ৭৭৬ জন, ছাত্রী ১১ হাজার ১৩৮ জন। রাঙামাটিতে ছাত্র ৩ হাজার ৩৩৭ জন ও ছাত্রী ৪ হাজার ৭৯ জন। খাগড়াছড়িতে ছাত্র ৩ হাজার ৪৩৮ জন ও ছাত্রী ৪ হাজার ৬৩১ জন এবং বান্দরবানে ছাত্র ১ হাজার ৫৯০ জন ও ছাত্রী ২ হাজার ৩৮৩ জন। পুরো অঞ্চলে ১ হাজার ২১৮টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২১৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে।

শিক্ষাবোর্ড জানিয়েছে, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রশ্নফাঁসের গুজব প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা চলাকালীন সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৭৬টি ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৬টি সাধারণ এবং ১০টি বিশেষ টিম রয়েছে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে। মোবাইল ফোন বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহার করা যাবে না।

ওএমআর শিট সঠিকভাবে পূরণ করা, উত্তরপত্র ভাঁজ না করা এবং প্রতিটি অংশে আলাদাভাবে পাস করা বাধ্যতামূলক।

এছাড়া পরীক্ষার্থীরা কেবল প্রবেশপত্রে উল্লিখিত বিষয়েই পরীক্ষা দিতে পারবে এবং নিজ প্রতিষ্ঠানে নয়, নির্ধারিত কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে হবে। পরীক্ষার সময় শুধুমাত্র কাঁটাযুক্ত (এনালগ) ঘড়ি ব্যবহারের অনুমতি থাকবে।

নিরাপত্তা জোরদারে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরীর প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের ২শ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করেছে পুলিশ প্রশাসন। পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে থেকে শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা পর পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে। এর আওতায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি, অস্ত্র বহন এবং অননুমোদিত প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে সম্পন্ন করতে আমরা ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এবার ২১৮টি কেন্দ্রে ১ হাজার ২১৮টি স্কুলে ১ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে। পরীক্ষা চলাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) প্রধান নির্বাহী বরাবরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। 

শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর জহিরুল হক স্বপন স্বাক্ষরিত চিঠিতে ২১ এপ্রিল থেকে ২০ মে সকাল ১০টা হতে বেলা ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।