বাসস
  ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৩৯

রাঙামাটিতে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের শাহাদাৎবার্ষিকীতে আলোচনা সভা 

রাঙামাটিতে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের শাহাদাৎবার্ষিকীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। ছবি: বাসস

রাঙামাটি, ২০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : জেলায় বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে আজ এক আলোচনা সভা ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার বেলা ১১টায় বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশন আয়োজিত জেলা শিল্পকলা একাডেমি’র হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাঙামাটি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু মোহাম্মদ সিদ্দিক আলম।

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটির পরিচালক ও উদ্যোক্তা ইয়াছিন রানা সোহেলের সভাপতিত্বে ও ফাউন্ডেশনের টিম মেম্বার সীমা ত্রিপুরার সঞ্চালনায় সভায় সম্মানীত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল একরামুল রাহাত।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, রাঙামাটি জেলায় বিজয়ের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) মনীষ দেওয়ান, রাঙ্গামাটির সাবেক পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান, জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি রনতোষ মল্লিক প্রমুখ। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সমন্বয়ক অ্যাড. জামাল হোসেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। দেশ মাতৃকার মুক্তির সংগ্রামে যারা জীবন বাজি রেখে শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন, তারা নিঃসন্দেহে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান।

তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের শাহাদাতবার্ষিকী পালনের মাধ্যমে তাদের মনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবোধ তৈরি হবে। আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হলে তারা দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

সভার পূর্বে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফসহ সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। আলোচনা শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিগণ।

উল্লেখ্য, মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ এর ২০ এপ্রিল জেলার সদর নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বীরদর্পে লড়াই করে শত্রুদের পরাস্ত ও পিঁছু হটতে বাধ্য করেন তৎকালীন ইপিআরের ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ। তাঁর সাহসিকতার কারণে সেদিন প্রায় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে শত্রুদের ছোঁড়া মর্টার সেলের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে মুন্সী আব্দুর রউফের শরীর। আর তাই বুড়িঘাট এলাকায় তাঁকে সমাহিত করেন বুড়িঘাট যুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় যুবক দয়াল কৃষ্ণ চাকমা। এরপর এক নাগাড়ে দীর্ঘ ২৬ বছর তিনি বীরশ্রেষ্ঠের সমাধির দেখভাল করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরকার মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য মুন্সী আব্দুর রউফকে সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।