বাসস
  ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:২৫

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বিদেশি জাতের আঙ্গুর চাষে সফলতা

ছবি: বাসস

/শফিকুল ইসলাম বেবু/

কুড়িগ্রাম, ১৯ এপ্রিল,২০২৬(বাসস):জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি প্রজাতির (বাইনুর) লাল আঙ্গুর চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন দুই কৃষি উদ্যোক্তা রুহুল আমীন ও হাসেম আলী। তাদের এ উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

উপজেলার গংগাহাট বাজারসংলগ্ন আজোয়াটারী এলাকায় দুই বিঘা জমিতে প্রায় ১০ বছরের প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে তাদের আঙ্গুর বাগান। বর্তমানে বাগানে ৪৬০টি বাইনুর জাতের আঙ্গুর গাছ রয়েছে।

উদ্যোক্তারা জানান, ২০২২ সালে প্রথমবার ৫০টি গাছ থেকে প্রায় ৫ মণ আঙ্গুর বিক্রি করেন তারা। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ১০ মণ, ২০২৪ সালে ১৫ মণ এবং ২০২৫ সালে ২০ মণ আঙ্গুর বিক্রি হয়। চলতি বছর ২০২৬ সালে ৬০টি গাছ থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মণ আঙ্গুর উৎপাদনের আশা করছেন তারা, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাগানে শুধু বাইনুর নয়, বিদেশি বিভিন্ন জাতের আঙ্গুরের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় তিন শতাধিক ফলজ গাছ রয়েছে। বাগানটি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন। আগ্রহীরা এখান থেকে আঙ্গুরের চারা সংগ্রহ করছেন।

মাগুরা জেলা থেকে আগত সহকারী শিক্ষক ও সৌখিন কৃষি উদ্যোক্তা রামপ্রসাদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বাগানের কথা জেনে তিনি অনুপ্রাণিত হন। পরে সরেজমিনে এসে ২০টি চারা সংগ্রহ করে আঙ্গুর চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার গাছেও ফলন আসা শুরু করেছে।

স্থানীয় আমিনুল ইসলাম ও বিষ্ণু চন্দ্র রায় জানান, শুরুতে অনেকেই এ উদ্যোগ নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। তবে উদ্যোক্তাদের অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের ফলে আজ তা সফলতায় রূপ নিয়েছে।

উদ্যোক্তা হাসেম আলী জানান, ২০১৭ সালে মাত্র ৪০টি চারা দিয়ে তারা আঙ্গুর চাষ শুরু করেন। ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করা হয়। প্রথম দিকে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদিত ফল আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে বিতরণ করা হলেও ২০২২ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি শুরু হয়। বর্তমানে আঙ্গুরের পাশাপাশি চারা বিক্রি করে বছরে প্রায় ৮ লাখ টাকা আয় হচ্ছে।

ব্যাংক কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তা রুহুল আমীন বলেন, দুই বিঘা জমিতে বাগান গড়ে তুলতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আঙ্গুর ও চারা বিক্রি করে প্রায় ৬ লাখ টাকা আয় হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকেরা চারা সংগ্রহ করে বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. নিলুফা ইয়াছমিন বলেন, বেলে-দোঁয়াশ মাটিতে এ ধরনের আঙ্গুর চাষ একটি নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতি ও কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং নতুন ফল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করবে।