বাসস
  ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৫২

গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার : স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ভোলায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সার্কিট হাউসে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় কথা বলেন। ছবি: বাসস

ভোলা, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে, অথচ গত ২০ বছরে বাংলাদেশের জনগণ প্রকৃত গণতন্ত্রের স্বাদ পায়নি।

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে উন্নয়নের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কোনো কার্যকর বিকল্প নেই।’

ভোলায় তিন দিনের সফর শেষে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সার্কিট হাউসে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং স্বৈরাচারী শাসন মেনে নেয় না। গুম, হত্যা ও দমন-পীড়নের মধ্যেও জনগণ রাজপথে নেমে এসে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই আন্দোলন বিশ্বজুড়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং জাতিকে গর্বিত করেছে। কিছু বৈশ্বিক শক্তি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে দুর্বল করার চেষ্টা করলেও জনগণের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।

মানবাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়েই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। তবে বাংলাদেশের জনগণ তাদের অধিকার সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার জনগণের সুখ-সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করে যাবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করছে এবং কোনো ব্যক্তি যেন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ আরো বলেন, বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সুস্থ সম্পর্ক বিরাজ করছে। ফলে, দীর্ঘদিন পর জনগণ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সরকার জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে।

এর আগে, সার্কিট হাউসে পৌঁছালে স্পিকারকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সভা শেষে তিনি বরিশাল হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওসার, জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. গোলাম নবী আলমগীর এবং বিএনপির জেলা সদস্য সচিবসহ অন্যান্যরা।