শিরোনাম

সৈয়দ শুকুর আলী শুভ
ঢাকা, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : জ্বালানি পাম্প মালিক ও বিশেষজ্ঞরা আজ অভিযোগ করেছেন, মোটরসাইকেল চালকদের অতিরিক্ত জ্বালানি নেওয়ার প্রবণতা বৈশ্বিক তেল সংকটের প্রেক্ষাপটে ফিলিং স্টেশনগুলোতে আতঙ্কজনিত ভিড় (প্যানিক রাশ) বাড়িয়ে তুলছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে প্রধান সরবরাহ পথ ব্যাহত হওয়ায়।
কয়েকজন পাম্প মালিক জানান, বিশেষ করে রাইড শেয়ারিংয়ে যুক্ত বাইকাররা প্রতিদিন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের প্রকৃত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি দাবি করছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
রমনা পেট্রোল পাম্প অ্যান্ড সার্ভিস স্টেশনের জ্বালানি বিতরণকর্মী সুলতান মিয়া বাসসকে বলেন, ‘তারা (বাইকাররা) মূলত এই আতঙ্কজনিত ভিড় তৈরি করছে। ধারণা করা হচ্ছে, কেউ কেউ জ্বালানি মজুত করছে। ট্যাংক খালি করে আবার তেল নিতে ফিরে আসছে।’
তিনি বলেন, অনেক সময় তারা ছোট কন্টেইনার ও বোতলেও জ্বালানি নিতে আসেন। তবে ঘটনাস্থলে থাকা এক বাইকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জীবিকার জন্য রাইড শেয়ারিং করায় তাদের জ্বালানি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ট্যাংক খালি হয়ে গেলে আয় একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে।’
অন্যদিকে সিটি ফিলিং স্টেশনের এক কর্মী অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি সরকার নির্ধারিত দামে জ্বালানি নিয়ে তা বেশি দামে খোলা বাজারে বিক্রি করছেন।
এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অভিযোগ করেন, কিছু সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চালকরাও জ্বালানি চুরি করে তেজগাঁও এলাকায় বেশি দামে বিক্রি করছেন।
জ্বালানি পাম্প মালিকরা জানান, সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ করলেও প্রতিদিনই লাইনের দৈর্ঘ্য বাড়ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে বাসস প্রতিবেদক দেখেন, অস্বাভাবিক ভিড়ের কারণে ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা বিশ্রাম নেওয়ার সময়ও পাচ্ছেন না।

তিনি আরও জানান, দুইটি স্টেশনে দেখা গেছে, কিছু বাইকার কিউআর কোডভিত্তিক জ্বালানি ব্যবহারের পাইলট প্রকল্পে নির্ধারিত সীমা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত জ্বালানি দাবি করছেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড জানায়, আজ (বৃহস্পতিবার) তারা ৪,৭৯৩ টন ডিজেল, ৫৩২ টন পেট্রোল এবং ৪৭৭ টন অকটেন সরবরাহ করেছে, এবং সারা দেশেই সরবরাহের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।
মেঘনা ছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ও যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড সারা দেশে জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিন কোম্পানি থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরবরাহ তদারকিতে ১১৬ জন ট্যাগ কর্মকর্তা কাজ করছেন।
এদিকে জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সত্ত্বেও বাংলাদেশের কাছে এখনও দুই মাসের জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং জ্বালানি বহনকারী জাহাজ বাংলাদেশমুখী রয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, আগামী চালান ২০ এপ্রিল পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ইতোমধ্যে রওনা দিয়েছে, যা এপ্রিলের শেষ বা মে মাসের শুরুতে বাংলাদেশে পৌঁছাবে।
এক কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি মজুতকারীদের বিরুদ্ধে সরকার অভিযান জোরদার করেছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গত ৪৩ দিনে ৫,৪২,২৩৬ লিটার জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ফিলিং স্টেশনগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে, যাতে মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট রোধ করা যায়।
মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুত ১,১৩,০৮৫ মেট্রিক টন, অকটেন ৩১,৮২১ মেট্রিক টন, পেট্রোল ১৮,০২১ মেট্রিক টন এবং ফার্নেস অয়েল ৭৭,৫৪৬ মেট্রিক টন রয়েছে। পাশাপাশি ড্রামে জ্বালানি বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানান, বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ৬৬,০০০ টন ডিজেলবাহী দুটি জাহাজ পৌঁছেছে।
তারা জানান, ‘এমটি টর্ম দামিনি’ জাহাজে ৩২,০০০ টন এবং ‘এমটি লুসিয়া সোলিস’ জাহাজে ৩৪,০০০ টন ডিজেল রয়েছে, যা খালাসের অপেক্ষায় আছে। জাহাজ দুটির কার্গো সিঙ্গাপুরভিত্তিক ইউনিপ্যাক ও ভিটাল এশিয়া সরবরাহ করেছে।