বাসস
  ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩৩

সবার ব্যাংক হিসাব ও অর্থনীতির আনুষ্ঠানিক খাতে নারীর অন্তর্ভুক্তি জরুরি : প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): দেশের প্রতিটি নাগরিককে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং নারীদের অর্থনীতির আনুষ্ঠানিকখাতে অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। 

তিনি বলেছেন, দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ ও নারীর প্রতি সহিংসতা মোকাবিলায় এ উদ্যোগগুলো সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি ক্যাশলেস সমাজ গড়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের নিজস্ব ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক পরিচয় থাকবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) ভবনে ‘মাইক্রোফাইন্যান্স ফর প্রোভার্টি অ্যালিভিয়েশন অ্যান্ড উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট: ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড ডিটারমিন্যান্টস’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এমআরএ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ড. তিতুমীর বলেন, ‘বাংলাদেশের সকল মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। আমরা চাই সবাই আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হোক।’ তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে মানুষ ব্যাংকের কাছে যেত, কিন্তু এখন ব্যাংকই মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এ পরিবর্তনকে আরও এগিয়ে নিতে মাইক্রোক্রেডিট খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে তফসিলি ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, কৃষকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য সরকার ‘কৃষক কার্ড’ চালু করেছে, যা ভূমিহীন, ক্ষুদ্র, প্রান্তিক, মাঝারি ও বড়Ñসব ধরনের কৃষকের জন্য প্রযোজ্য। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রণোদনা, কৃষিঋণ এবং কৃষি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। চিপ-সংবলিত এই কার্ড আন্তর্জাতিকভাবে ডেবিট কার্ড হিসেবেও ব্যবহারযোগ্য।

তিনি জানান, নির্দিষ্ট খাতে প্রণোদনার অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে কৃষকরা কৃষি উপকরণ কেনার ক্ষেত্রেই এই অর্থ ব্যবহার করেন।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে এসব কর্মসূচিতে অনিয়ম, অপচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত উপকারভোগীরা বাদ পড়েছেন, আবার অযোগ্য ব্যক্তিরা সুবিধা পেয়েছেন। এ বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার সর্বজনীন ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে, যা ধীরে ধীরে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় রূপ নেবে।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির প্রভাবে গত তিন বছরে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে। একই সময়ে বাল্যবিবাহের হার বেড়ে প্রায় ৫১ শতাংশে পৌঁছেছে এবং নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ জরুরি।

নারীর ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়নই হচ্ছে দেশের অগ্রগতির মাপকাঠি।’ তিনি বলেন, অতীতে যখন আনুষ্ঠানিক খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছিল, তখন অর্থনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে এবং দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়Ñযেমন মহামারি, যুদ্ধ বা জ্বালানি সংকটÑএই ধাক্কা মোকাবিলায় নারীদের আনুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, নারীরা যদি আনুষ্ঠানিক খাতে যুক্ত না হন, তাহলে অর্থনীতি ‘শক অ্যাবজর্ব’ করতে পারবে না এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন ব্যাহত হবে।

অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এর অর্থ হচ্ছে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। সবার ব্যাংক হিসাব এবং নারীর সক্রিয় অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ড. তিতুমীর আরও বলেন, উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সমবায়ভিত্তিক উদ্যোগ, ক্রয় ও বিক্রয়কেন্দ্র এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক মডেল গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে এমআরএ-এর এক্সিকিউটিভ ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশ একাডেমি ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট (বার্ড)-এর মহাপরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শুভাশীষ বড়–য়া বক্তব্য রাখেন।