বাসস
  ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৪৪
আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৫০

সুনামগঞ্জ জেলায় ১২,৩৩,৫১৭ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

ছবি : বাসস

মুহাম্মদ আমিনুল হক

সুনামগঞ্জ, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ (বাসস) : বোরো ধানের উপর নির্ভরশীল এ জেলার কৃষকরা। জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের বোরো মৌসুমে মোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। জেলার ১২টি উপজেলার ১৩৭টি হাওরে এই বোরো আবাদ করা হয়েছে। 

কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জ জেলা থেকে প্রায় ১২ লাখ ৩৩ হাজার ৫১৭ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৈশাখ মাস আসতে না আসতেই কৃষকরা ধান কাটা শুরু করেছেন। এখন গোলায় ধান তোলার অপেক্ষা। কেউ আবার অপেক্ষা করছেন নববধূ ঘরে আনার। 

জেলার খরচার হাওর পাড়ের লালপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, খরচার হাওরে ধান ভালো হয়েছে। আল্লাহর রহমতে এই ধান বিক্রির মাধ্যমে আমরা সারা বছর চলতে পারবো। বিয়ে শাদি থেকে শুরু করে সব খরচ ধানের উপর নির্ভরশীল। সময়মতো ধান গোলায় তুলতে পারলে তবেই স্বস্তি। 

গৌরারং ইউনিয়নের জগাইরগাও গ্রামের কৃষক নাজিম উদ্দীন বলেন, হাওরে ধান লাগাতে গিয়ে পানির সংকট দেখা দেয়। এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। 

কৃষক আব্দুল আউয়াল বলেন, হাওরে ধান কাটার সময় শ্রমিক সংকট দেয়। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ হারভেস্টার মেশিন দরকার। আবুল বরকত ও আল আমিন বলেন, হারভেস্টার দিয়ে কৃষকদের ধান কাটায় সহযোগিতা করতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

মনু মিয়া জানান, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ এলাকা থেকে ৯ জন ‘নাইয়া’ (ধান কাটার শ্রমিক) এসেছে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজারে। ধান কাটার সব সরঞ্জাম সাথে নিয়ে এসেছেন তারা। তারা বীরগাঁও ইউনিয়নে ধান কাটবেন। হাওরের কাঁচা ধান পাকতে শুরু করেছে। দুই-চারদিনের মধ্যেই নিজের ক্ষেতের ধান কাটা শুরু করবেন মনু মিয়া।  

ধান কাটার শ্রমিকের ব্যবস্থা করেছেন বীরগাঁওয়ের কৃষকরাও। ধান কাটার শ্রমিকের স্থানীয় নাম ‘নাইয়া’। নাইয়ারা মাসব্যাপী কাজ করবেন পাখিমারা, রাঙামাটি ও পুটিয়ায়। ফেরার সময় পারিশ্রমিক হিসেবে ট্রাক ভর্তি করে ধান নিয়ে বাড়ি যাবেন। 

এদিকে উপজেলায় বোরো ধান ঘরে তুলতে একশর বেশি হারভেস্টার মেশিন মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি কার্যালয়। কৃষি অফিসের আওতাধীন ৭৭টি ও ব্যক্তিগত প্রায় ৫০টি হারভেস্টার মেশিন ধান কাটবে এ বছর।

শুধু বীরগাঁওয়েই নয়, উপজেলার আরও বিভিন্ন হাওর এলাকায়ও আসবেন নাইয়ারা (শ্রমিক)। স্থানীয় শ্রমিক আর হারভেস্টার মেশিনেই কাটা হয়েছে ধান। কৃষকরা জানিয়েছেন, হারভেস্টার মেশিনে ধান কাটলে কৃষকদের যেমন সুবিধা আছে তেমনি অসুবিধাও আছে। একদিকে যেমন গো-খাদ্য হিসেবে খড় পান না, তেমনি জমিতে সামান্য পানি হলেও সেই মেশিন আর পানিতে নামানো যায় না। এমন পরিস্থিতিতে গভীর হাওরেও নেওয়া যায় না হারভেস্টার মেশিন। এ জন্য নাইয়ার (শ্রমিক) এর দরকার।

কৃষি অফিস জানিয়েছে, জমিতে ৮ইঞ্চি পানি থাকলেও হারভেস্টার মেশিন ভালো করে কাজ করতে পারে। মূলত, কৃষকরা সনাতনী পদ্ধতি অর্থাৎ শ্রমিক দিয়ে ধান কাটাতে বেশি আগ্রহী। এতে গবাদি পশুর খাদ্য উপযোগী খড় পাওয়া যায়। 

জানা যায়, হারভেস্টার মেশিনে ধান কাটতে প্রতি ৩০ শতক জমিতে ১৯০০ টাকা নেওয়ার জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এখানে ভিন্ন কথা শোনা যাচ্ছে কৃষকদের মুখে। তারা বলছেন, এখন বৈশ্বিক পরিস্থিতি ভালো নয়। তেল সংকটের পাশাপাশি হারভেস্টার মেশিন চালাতে প্রতিদিন অনেক তেল লাগে। তেলের দাম বৃদ্ধি ও তেল সংকটের কারণে কোনো অবস্থাতেই ১৯০০ টাকায় ধান কাটা সম্ভব নয়। এ নিয়েও কৃষকরা শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। 

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক বলেন, চলতি মৌসুমে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে সব উপজেলায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। এখন পর্যন্ত ৭৯৫ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। এ বছর আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে ধান কাটা কিছুটা পিছিয়েছে। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে মে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে শতভাগ ধান কাটা শেষ হবে।