বাসস
  ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৪৭

মৌলভীবাজারের জুড়ীকে কৃষি হাবে রূপান্তরে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : শ্রমমন্ত্রী

মঙ্গলবার মৌলভীবাজারের জুড়ীতে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি : বাসস

ঢাকা, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (বাসস) : শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, মৌলভীবাজারের জুড়ীকে আধুনিক কৃষি হাবে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ অঞ্চলের কৃষি সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

আজ মঙ্গলবার মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা বশির উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  

শ্রমমন্ত্রী বলেন, জুড়ী অঞ্চলের মাটি অত্যন্ত উর্বর। এখানে লাউ, তরমুজ, লেবু, কলাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মাটি পরীক্ষা করে উপযোগী ফসল চাষে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে কৃষকদের ভর্তুকি সুবিধাও দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, জুড়ীকে কেন্দ্র করে সরকারের একটি ‘কৃষকের হাট’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সিলেট বিভাগের কৃষিপণ্যের অন্যতম প্রধান বিপণনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এতে করে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষি শ্রমিকের চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে জুড়ীতে একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এ কেন্দ্রে কৃষি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ভাষা শিক্ষা, যেমন ইংরেজি, জাপানি ও অন্যান্য ভাষার কোর্স চালু করা হবে। 

তিনি আরও বলেন, আধুনিক সংরক্ষণ ও প্যাকেজিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে জুড়ীর কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে কৃষকরা ভালো দাম পাবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য 

রাখেন মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন আহমেদ, মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম ও মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ুন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান।

এ সময় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কৃষক, উপকারভোগী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।