শিরোনাম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ২৩ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতবিদ অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) জামাল নজরুল ইসলাম গণিত ও ভৌত বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের নতুন ৬ তলা অ্যানেক্স ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে কেন্দ্রসংলগ্ন সড়কের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম ও প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল আহাদ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার প্রতি আমরা বিশেষ গুরুত্বারোপ করছি। এ ভবন গবেষণার কাজে ব্যবহার হবে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।’
জানা যায়, যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে ১৯৮৬ সালে কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম। কিন্তু গত চার দশকেও এই গবেষণা কেন্দ্রটির সম্প্রসারণ বা নতুন ভবন নির্মাণে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অবশেষে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে ৯ কোটি ৬২ হাজার ৭৬৪ টাকা ব্যয়ে নতুন করে ৬ তলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
প্রকল্প পরিচালক ও চবির প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. ইলিয়াছ চৌধুরী জানান, গবেষণা কেন্দ্রটির প্রায় ৩৮ হাজার বর্গফুট এলাকা নিয়ে প্রায় ৪০ কোটি টাকার একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ১১ হাজার বর্গফুট জায়গায় ৬ তলা একাডেমিক ভবন, সাড়ে ৮ হাজার বর্গফুট জায়গায় অডিটোরিয়াম, ১০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে প্লাজা ও লিলি পন্ড এবং প্রায় আড়াই হাজার বর্গফুট জায়গায় পার্কিং এরিয়া নির্মাণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ৯ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় ৬ তলা ভিত্তিসম্পন্ন একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
আগামী এক বছরের মধ্যে ভবনটির দুই তলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তীতে ইউজিসির বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে অবশিষ্ট অংশের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রকৃতির কোনো ধরনের ক্ষতি না করেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এ বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি।’
প্রকল্পের ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী, গত ৯ জুলাই থেকে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী ৩৬৫ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ৯ জুলাইয়ের মধ্যে নির্ধারিত কাজ শেষ করতে হবে।
জানা গেছে, তিন দফা দরপত্র আহ্বানের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএসআই কনস্ট্রাকশান লিমিটেড ৯ কোটি ৬২ হাজার ৭৬৪ টাকায় কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় (ইস্টিমেট কস্ট) ছিল ৯ কোটি ৮৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬২ টাকা।