শিরোনাম

ঢাকা, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বৈশাখী মেলা কেবল একটি সাংস্কৃতিক মিলনমেলা নয়; বরং এটি দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি খাতের বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।
তিনি আজ ঢাকায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ এবং চৈত্র সংক্রান্তি উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে সাত দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, গত দেড় দশকে প্রত্যেকটা বৈশাখে মানুষের মধ্যে একটা আতঙ্ক সৃষ্টি হতো, স্বাভাবিক বর্ষবরণ হবে নাকি কোনো অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটবে। এ দেশের আপামর মানুষ যে কত শান্তিপ্রিয় এবং কত সুশৃঙ্খল-তার একটি উদাহরণ হচ্ছে আজকের বর্ষবরণ উৎসব।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উৎপাদনশীলতা শুধু বৃহৎ শিল্পকারখানায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা বিস্তৃত রয়েছে গ্রামীণ কারুশিল্পী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং গৃহভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার মধ্যে। তাদর সৃজনশীলতা, শ্রম ও উদ্ভাবনী শক্তিই জাতীয় অর্থনীতির ভিতকে সুদৃঢ় করে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প খাতের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ খাত দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম প্রধান মাধ্যম। শিল্প মন্ত্রণালয় এ খাতের টেকসই উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টির প্রসার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, সংস্কৃতি সচিব কানিজ মাওলা, বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম এবং বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বক্তৃতা করেন।
পরে সংস্কৃতি ও শিল্পমন্ত্রী বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন এবং মেলায় বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
এবারের মেলায় মোট ১৬০টি স্টল রয়েছে। এর মধ্যে চামড়াজাত পণ্যের ৭টি, জামদানির ৬টি, নকশিকাঁথার ৪টি, বস্ত্রের ৪৪টি, শতরঞ্জির ৫টি এবং মণিপুরি শাড়ি ২ স্টল। এ
ছাড়া, কারুশিল্পী জোন, শিশুদের রাইড ও বিনোদন জোন, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ১৩টি, প্রান্তিক কারুশিল্পীদের জন্য ১৩টি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ২টি এবং কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির জন্য ১টি স্টল রয়েছে।
উল্লেখ্য. আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে সর্বজনীন এই লোকজ মেলা।