বাসস
  ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:২২

খুলনায় আনন্দঘন পরিবেশে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন

ছবি : বাসস

খুলনা, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): মহানগরীসহ জেলাব্যাপী নানা আয়োজনে আনন্দঘন পরিবেশে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপিত  হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন বর্ষবরণ, বৈশাখি শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, লোকজ মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 
এছাড়াও মহানগরীর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বাংলা নববর্ষ বরণে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় । 

‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ সকালে মহানগরীর রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গণ থেকে বৈশাখি শোভাযাত্রা বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহিদ হাদিস পার্কে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খুলনা শহিদ হাদিস পার্কে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নাজমুল হক। খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য ও সার্বজনীন উৎসব। বাঙালির লোকসংস্কৃতির সাথে বাংলা নববর্ষ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 

তিনি বলেন, বিগত বছরের যত গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরে আমরা নতুন করে শুরু করবো। আমরা সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করেছি। ঐক্যবদ্ধ, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা আশা করছি সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবো। এটাই হোক নববর্ষে আমাদের সবার আকাক্সক্ষা। আমরা সবাই মিলে খুলনাসহ সমগ্র বাংলাদেশকে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর জনপদে রূপান্তর করবো এবং দেশের উন্নয়নে সবাই মিলে কাজ করবো।

নববর্ষ উপলক্ষে জেলা কারাগার, হাসপাতাল ও সরকারি শিশু পরিবার, এতিমখানাসমূহে ঐতিহ্যবাহী বাংলা খাবার পরিবেশন এবং শিশু পরিবারের শিশুদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

এছাড়াও জেল কয়েদিদের তৈরি বিভিন্ন দ্রব্যাদি প্রদর্শনী, কারাবন্দিদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নাটক প্রদর্শন করা হয়। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্ব-স্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করে। পহেলা বৈশাখে শহিদ হাদিস পার্কে দিনব্যাপী লোকজ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

খুলনার ৯টি উপজেলাতেও অনুরূপ কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়।