শিরোনাম

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিখনফল নির্ধারণ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১৬ এপ্রিল দেশের নির্বাচিত ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অব সেকেন্ডারি স্টুডেন্টস’ (নাস)-এর পাইলটিং পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
আজ সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ কথা জানানো হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ প্রকল্পের আওতায় এই জাতীয় মূল্যায়ন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। ঋণচুক্তির শর্তানুসারে, সফলভাবে এই মূল্যায়ন সম্পন্ন করার বিপরীতে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ সরকারকে ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ ছাড় করবে।
পাইলটিং কর্মসূচির আওতায় মূলত প্রণীত প্রশ্নপত্রের সঠিকতা ও কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। দেশের ৩০টি উপজেলা থেকে নির্বাচিত ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে ৬ষ্ঠ, ৮ম ও ১০ম শ্রেণির (যারা বর্তমানে ৭ম ও ৯ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এবং এসএসসি/দাখিল পরীক্ষার্থী) শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে।
এতে বলা হয়, বাংলা, গণিত ও ইংরেজি- এই তিন বিষয়ের ওপর মূল্যায়ন পরিচালিত হবে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে লটারি বা নির্দিষ্ট বিরতি পদ্ধতিতে, প্রতি শ্রেণিতে ৩০ জন করে মোট ৯০ জন শিক্ষার্থী এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে।
সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে পরীক্ষা শুরু হবে। বাংলা পরীক্ষা সকাল ৯.৩০ থেকে ১০.৪০ মিনিট, ইংরেজি ১১টা থেকে ১২.১০ মিনিট এবং গণিত দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১.৪০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি বিষয়ের মাঝে ২০ মিনিটের বিরতি থাকবে।
পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে আহ্বায়ক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের একটি ‘পরীক্ষা আয়োজন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, পরীক্ষার আগের দিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কমিটির সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরীক্ষা শেষে সিলগালাকৃত উত্তরপত্রগুলো নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় ‘লেইস’ প্রকল্প কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রধান বিষয়গুলোতে (বাংলা, গণিত ও ইংরেজি) শিখনফল নির্ধারণ করা এবং শিক্ষাব্যবস্থার সবলতা ও দুর্বলতার দিকগুলো চিহ্নিত করা এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
আদেশে সংশ্লিষ্ট সকল জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের এই জাতীয় কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।