বাসস
  ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৪২

অর্থনীতিতে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে জোর দিচ্ছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ফাইল ছবি

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে টেকসই স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে হলে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীতে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা : বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, অতীতে জবাবদিহিতার অভাব এবং অযৌক্তিক প্রকল্প গ্রহণের ফলে অর্থনীতিতে অস্বাভাবিকতা সৃষ্টি হয়েছে; যার প্রভাব এখনো বিদ্যমান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের বাইরে কোনো আলাদা সত্তা নয়; জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা এবং অর্থনৈতিক স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কার্যকর সংযোগের মাধ্যমেই একটি সুস্থ অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে ওঠে। এ সংযোগ ও স্বচ্ছতা ভেঙে গেলে অর্থনীতিতে অস্থিরতা ও ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য। কিন্তু অতীতে এমন কিছু প্রকল্প নেওয়া হয়েছে যেগুলোর যথাযথ যৌক্তিকতা ছিল না এবং প্রকৃত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের আওতাধীন বাস্তবায়ন, মনিটরিং ও মূল্যায়ন বিভাগের (ওগঊউ) পর্যালোচনায়ও অনেক প্রকল্পে দুর্নীতি ও অকার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই করা সম্ভব নয়। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, সহজ ব্যবসা প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা জরুরি। 

তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নিয়েছে; যাতে ব্যবসায়ীরা ঘরে বসেই লাইসেন্স ও নিবন্ধন সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও সারসহ বিভিন্ন আমদানি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এলএনজি, ক্রুড অয়েল ও সার আমদানির খরচ দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে; যা সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্থানীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জন্য করজাল সম্প্রসারণ অপরিহার্য। ব্যক্তিগত করহার বাড়ানোর পরিবর্তে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর ওপর সরকার জোর দিচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে আসন্ন বাজেট ও পরবর্তী সময়ে এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।

তিনি বেসরকারি খাতকে সরকারের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাজ করলে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী করা সম্ভব।’

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ প্রাক-বাজেট আলোচনায় জেনারেল ইকনমিকস ডিভিশনের সদস্য ড. মঞ্জুর হোসেন, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমানসহ দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।