বাসস
  ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:২৮

নেত্রকোণায় মোবাইল কোর্টের অভিযান : জরিমানা, খাস জমি উদ্ধার

ছবি: বাসস

নেত্রকোণা, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : জেলার বিভিন্ন উপজেলায় জনস্বার্থ রক্ষা, কৃষকদের সার প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

অভিযানে সার বিক্রিতে অনিয়ম ও সড়ক দখলের অভিযোগে পাঁচটি মামলায় মোট ৫৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি সোমেশ্বরী নদীর তীরে অভিযান চালিয়ে প্রায় এক একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

আজ পরিচালিত দিনব্যাপী এই অভিযানে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ দল উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মনিটরিং নিশ্চিত করে।

নেত্রকোণা সদর উপজেলায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অপরাধে মেসার্স ফকির ব্রাদার্সকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিজা খাতুন। সারের প্রকৃত মজুদের সঙ্গে হিসাবের মিল না থাকা ও বিক্রয় রশিদ না দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে ব্যাখ্যা তলবের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে পৌর এলাকায় সড়কে অবৈধ ভাসমান দোকান উচ্ছেদে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাহাবুদ্দিনের অভিযানে দুটি মামলায় আরও ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

কেন্দুয়া পৌরসভায় ডিলারশিপ লাইসেন্স ছাড়া এবং চড়া দামে সার বিক্রির অভিযোগে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর আওতায় একজনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী।

অন্যদিকে, মোহনগঞ্জ উপজেলায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে সার বিক্রি করায় রাজন এন্টারপ্রাইজকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা খাতুন। রেজিস্টারে সারের অসংগতি ও ক্যাশ মেমোতে ওভাররাইটিং থাকায় প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা গ্রহণের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এছাড়া, দুর্গাপুর পৌর এলাকার সোমেশ্বরী নদীর তীর সংলগ্ন তেরীবাজার ঘাটে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় এক একর খাস জমি দখলমুক্ত করা হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে নদীর তীরে গড়ে ওঠা ১০টি অবৈধ টিনশেড স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

বাজার তদারকি, কৃষকদের স্বার্থে সারে কারসাজি প্রতিরোধ এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় জেলাজুড়ে এই ধরনের মোবাইল কোর্ট ও মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান।