বাসস
  ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:২৩

সমন্বিত উদ্যোগে হামসহ সকল সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রোববার ডিএসসিসি এলাকায় ‘জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি : বাসস

ঢাকা, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন,  সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হাম-রুবেলাসহ সকল ধরনের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। 

আজ রোববার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ‘জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬’-এর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর নগর ভবন অডিটোরিয়ামে এই টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৫ এপ্রিল দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আজ রোববার থেকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণসহ গুরুত্বপূর্ণ চারটি সিটি করপোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ) একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হলো।

সরকার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ৯৫ শতাংশ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনতে চায় জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আল্লাহর রহমতে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হামের হাত থেকে রক্ষা করতে পারব। 

সিটি কর্পোরেশনের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা কামনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের পূর্বের অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে এ কর্মসূচিকে সফল করতে হবে।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন কাজপাগল মানুষ। এত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি নিয়মিত দেশে হামের পরিস্থিতির আপডেট নিচ্ছেন।’

রাজধানীতে হামের টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং শতভাগ শিশুর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী। তিনি  বলেন, ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর (৫৯ মাস) বয়সী সব শিশুকে এই টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। এ কর্মসূচিকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রয়োজনে গলিতে-গলিতে প্রচারণা চালাতে হবে, যাতে এটি সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয় এবং সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিশেষ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন- এই দুই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের আরও সক্রিয় ও তৎপর হওয়ার পরামর্শ দেন। 

মহামারি থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে সরকার অনেক আগেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম শুরু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ মহামারি থেকে পরবর্তী প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে অত্যন্ত সচেতন। জনগণের কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। মহামারি প্রতিরোধের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও নিরাপদ প্রজন্ম গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে মহাখালী সংক্রামক রোগ হাসপাতালে দ্রুততার সঙ্গে আইসিইউ ইউনিট চালু করার কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি এ কাজে ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়া উদ্বেগজনক। বর্তমান সরকার এই কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। গণমাধ্যমকে অনুরোধ করব, তারা যেন সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করেন, বিশেষ করে শ্রমজীবী অভিভাবকদের কাছে টিকার গুরুত্ব পৌঁছে দেন।

সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, বিগত সরকারের অসাবধানতার কারণেই দেশ আজ হামের এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে আমরা প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর। মাঠ পর্যায়ে অলিগলি পর্যন্ত গিয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ এমানুয়েল আব্রিউক্স, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর আওতায় মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ডিএসসিসি এলাকাজুড়ে সর্বমোট ৫৪০টি টিকাদানকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯০টি স্থায়ী এবং ৪৫০টি অস্থায়ী কেন্দ্রে সেবা দেওয়া হবে। ক্যাম্পেইন চলাকালে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে এই টিকা দেওয়া হবে। এপ্রিলের ১২ তারিখ থেকে ১১ মে পর্যন্ত মাসব্যাপী এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।