শিরোনাম

বান্দরবান, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : জেলার সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করে নিতে শুরু হয়েছে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বিষু উৎসব। একইসঙ্গে ফুল ভাসানোর মাধ্যমে শুরু হয়েছে চাকমা সম্প্রদায়ের বিজু উৎসবও।
আজ রোববার সকালে রোয়াংছড়ি বাস স্টেশন সংলগ্ন সাঙ্গু নদীর তীরে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে পাহাড়ি তরুণ-তরুণীরা সবার মঙ্গল কামনায় কলাপাতায় সাজানো ফুল দিয়ে গঙ্গাদেবীর পূজা করেন।
পরে দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসিয়ে পুরাতন বছরের গ্লানি ভুলে নতুন বছরের শুভকামনা জানান তারা।

সূর্যোদয়ের আগেই নদীর তীরে জড়ো হন শত শত তঞ্চঙ্গ্যা ও চাকমা সম্প্রদায়ের শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ।
সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসাতে আসা সুপ্রিয়া তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, আজ আমাদের আনন্দের দিন। সকালে নতুন পোষাক পরিধান করে সাঙ্গুর তীরে এসেছি। গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্য কলাপাতায় সাজানো ফুল নদীতে ভাসিয়ে প্রার্থনা করেছি।
বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কিরণ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, বিকেলে ঘিলা খেলব। খেলায় অনেক আনন্দ হয়। বন্ধুদের সাথে নিয়ে সাঙ্গু নদীতে এসেছি। ফুল ভাসিয়ে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছি।
আয়োজকরা বাসসকে জানান, আগামীকাল মূল বিজু। এদিন সকাল থেকে ঘরে ঘরে ২০ থেকে ৩০ ধরনের সবজি দিয়ে তৈরি করা হয় ঐতিহ্যবাহী ‘পাঁজন’। নতুন পোশাক পরে একে অপরের বাসায় গিয়ে পাজন খাওয়ার আনন্দে মেতে ওঠেন সবাই। পাঁজন রান্নাতে কাঁচা কাঁঠাল, মটর, ছোলা, বুনো আলু, চিংড়ি, শিমের বিচি, কচি বেত ও বাঁশের ডগাসহ নানা গ্রীষ্মকালীন সবজি এতে ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি পিঠা ও অন্যান্য খাবারের আয়োজন থাকে।

বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কেন্দ্রীয় বিষু মেলা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা বাসসকে বলেন, নদীতে ফুল ভাসানোর মাধ্যমে আজ থেকে বিষু ও বিজু উৎসব শুরু হয়েছে। এরপর আম, জাম আর নিম পাতা দিয়ে ঘরের প্রধান দরজা সাজিয়ে রাখব যাতে রোগব্যাধি প্রবেশ না করতে পারে। ঘিলা খেলার সাথে সাথে পিঠার আয়োজনও করি। খেলাধূলার পাশাপাশি সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের বিষু উৎসব তিন দিনব্যাপী—ফুলবিষু, মূলবিষু ও নববর্ষ—এই তিন ধাপে উদযাপিত হয়। একই সময়ে চাকমা সম্প্রদায়ের বিজু উৎসবও নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে।