বাসস
  ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৩৫

জ্যোতির্বিজ্ঞানের ওপর বান্দরবানে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ 

শিক্ষার্থীদের জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে বিস্তৃত ধারণা প্রদান করতে বান্দরবানে শিক্ষকদের জন্য দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু। ছবি: বাসস

বান্দরবান, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, (বাসস) : শিক্ষার্থীদের জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে আরও বিস্তৃত ধারণা প্রদান এবং আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাদের দক্ষ করে তুলতে বান্দরবানে শিক্ষকদের জন্য দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা আজ শুরু হয়েছে।

শুক্রবার সকালে বান্দরবান কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়নের অফিস ফর অ্যাস্ট্রোনমি এডুকেশন এবং অফিস ফর অ্যাস্ট্রোনমি আউটরিচ-এর ন্যাশনাল আউটরিচ কো-অর্ডিনেটর-বাংলাদেশ টিম এই কর্মশালার আয়োজন করে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, এই ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকরা জ্যোতির্বিজ্ঞানের ওপর আরও দক্ষ হয়ে উঠবেন এবং সেই জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হবেন। ফলে শিক্ষার্থীরাও আধুনিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের আরও দক্ষ করে তুলতে পারবে।

দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে বান্দরবান সদরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩০ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণে চন্দ্রগ্রহণ, সূর্যগ্রহণ, সৌরজগৎ, সূর্যের গতিবিধি, সূর্য ঘড়ি, পৃথিবীর অবস্থান, আকাশ ও গ্রহ-নক্ষত্রসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গেমভিত্তিক শিক্ষা ও বিভিন্ন শিক্ষা ওয়েবসাইট সম্পর্কেও ধারণা দেয়া হচ্ছে।

প্রশিক্ষণের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে হাতে-কলমে শিক্ষা কার্যক্রম। এরমধ্যে রয়েছে পকেট সোলার সিস্টেম তৈরি, চাঁদের দশা ও গ্রহণ পর্যবেক্ষণ, ইকুয়েটোরিয়াল সানডায়াল বা সূর্য ঘড়ি তৈরি, স্পেসটাইম ও গ্র্যাভিটি ওয়েল ডেমোনস্ট্রেশন, মহাবিশ্বে আমাদের অবস্থান নির্ধারণ, প্যারালাক্স পদ্ধতিতে দূরত্ব নির্ণয় এবং স্টেলারিয়াম সফটওয়্যারের মাধ্যমে রাতের আকাশ ও নক্ষত্রমণ্ডল চেনা।

প্রশিক্ষণে বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী,  চুয়েটের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার দেব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু তালেব, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. হাসানসহ বিভিন্ন বিজ্ঞানী ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা বাসস’কে জানান, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান শিক্ষকরা নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেবেন। এতে তৃণমূল পর্যায়ে বিজ্ঞান চর্চা, অনুসন্ধিৎসা এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।