বাসস
  ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৪২

মেঘনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় হাইমচরে ৫ জনকে গ্রেফতার

জেলার হাইমচরে মেঘনা নদী তীরবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু কেটে নিয়ে যাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে নদী তীর রক্ষা বাঁধ। ছবি : বাসস

চাঁদপুর, ৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : জেলার হাইমচরে মেঘনা নদী তীরবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু কেটে নিয়ে যাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে নদী তীর রক্ষা বাঁধ| এ পরিস্থিতি  মোকাবেলায় বাঁধ রক্ষায় দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের লক্ষ্যে সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পাউবো| অভিযুক্ত সাতজনের মধ্যে পাঁচ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে হাইমচর থানা পুলিশ। 

চাঁদপুর  জেলার হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের ১ন¤^র ওয়ার্ড গাজীনগর এলাকায় নদী রক্ষা বাঁধ সংলগ্ন কয়েক একর বালুচর ড্রেজার দিয়ে কেটে নেওয়ায় সেখানে এখন নদীর অথৈ পানি| এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে| হুমকির মুখে পড়েছে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাজীনগর এলাকায় মেঘনার তীরে জেগে ওঠা বিশাল বালুচরে আশেপাশে কোনো খালি জায়গা না থাকায় স্থানীয় শিশু-কিশোররা নিয়মিত খেলাধুলা করত| গত সোমবার বিকেলেও সেখানে ফুটবল খেলার আসর বসেছিল| কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে এসে তারা দেখেন, রাতের আঁধারে  কে বা কারা ড্রেজার দিয়ে বালু কেটে নেওয়ায় মাঠের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে| সেখানে এখন শুধু থইথই পানি।

স্থানীয় বাসিন্দা দুলু মুন্সি বাসসের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সোমবার বিকেলে এখানে ছেলেরা ফুটবল খেলল, আর সকালে এসে দেখি মাঠটাই নেই| ড্রেজার দিয়ে সব বালু নিয়ে গেছে| এই বালু কাটার ফলে নদী রক্ষা বাঁধটি এখন চরম ঝুঁকিতে| বাঁধ ভেঙে গেলে আমাদের ঘরবাড়ি সব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

হাইমচর থানা পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সাতজনকে আসামি করে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) একটি মামলা দায়ের  করেছে| আসামীরা হলেন, হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের ৬ন¤^র ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন মিজির পুত্র আব্দুল কাদের (২২), পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানার ¯^রুপকাঠি এলাকার মো. নুরুল আমিনের পুত্র মো. আইয়ুব আলী (২০), নাজিরপুর থানার মধ্য কলারদোয়ানীয়া এলাকার মো. মোস্তফার পুত্র মো. আমান উল্যাহ(১৯), শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানার ঢাকেরহাটি এলাকার মো. শহিদুল আখন এর পুত্র মো. মোরশালিন (১৯), পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার কলারদোয়ানিয়া এলাকার মো. আবু হানিফে পুত্র মো. শফিকুল ইসলাম (২৩), হাইমচর থানার উত্তর বগুলা গ্রামের ছানাউল্লাহ মিজির পুত্র দোলোয়ার মিজি (৪৪) এবং দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড চরভাংগা গ্রামের কাদের গাজীর পুত্র মনির হোসেনের পুত্র জুয়েল (৩৫)।

হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, মামলার প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে| বাকি আসামি দেলোয়ার ও জুয়েলকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পাউবো’র কর্মকর্তারা। 

হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেই পাউবোর সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামতের নির্দেশনা দিয়েছি| অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে|

চাঁদপুর পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বাসসকে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে আমাদের স্টকে থাকা ব্লক এনে প্রাথমিকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছি।