বাসস
  ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৪৮

বিদ্যমান আইন মেনে চলার মাধ্যমে জাটকা নিধন বন্ধ করতে হবে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ আজ দুপুরে চাঁদপুর জেলা সদরের মোলহেডে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬’র উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্য দেন। ছবি : মন্ত্রণালয়

চাঁদপুর, ৭ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে মেনে চলার মাধ্যমে জাটকা নিধন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।

আজ দুপুরে জেলা সদরের মোলহেডে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬’র উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে মৎস্যজীবী থেকে ভোক্তাসহ সকলকে জাটকা সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ দেশের গর্ব ও ঐতিহ্য। ১৯৭৮-৮১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ইলিশকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে চিহ্নিত করেন।

মন্ত্রী বলেন, পরবর্তীতে ২০০৩-’৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, একসময় দেশে প্রায় ২০ লাখ টন ইলিশ উৎপাদিত হলেও তা কমে প্রায় দুই লাখ টনে নেমে আসে। বর্তমানে জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে উৎপাদন পুনরায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাটকা নিধন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা গেলে দেশে ইলিশের উৎপাদন ২০ লাখ টন ইলিশ উন্নত করা সম্ভব।

মন্ত্রী বলেন, চাঁদপুর দেশের ইলিশ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র, যেখানে মোট উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশ পাওয়া যায়। তবে এক সময়কার প্রাচুর্যের তুলনায় বর্তমানে ইলিশের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে, যার প্রধান কারণ জাটকা নিধন।

তিনি বলেন, একটি ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা মানে হাজার হাজার ভবিষ্যৎ মাছ ধ্বংস করা। তাই ইলিশ সংরক্ষণে সবার সচেতনতা জরুরি।

তিনি বলেন, সরকার জেলেদের জন্য চাল, তেলসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা প্রদান করছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬৫০০ টাকা।

তিনি আরও বলেন, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি জেলেদের দায়িত্বশীল আচরণই ইলিশ সংরক্ষণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রী জেলেদের উদ্দেশ্যে বলেন, অন্তত দুই মাস মাছ ধরা থেকে বিরত থাকলে ছোট ইলিশ বড় হয়ে অধিক ওজনের হবে, যা ভবিষ্যতে বেশি লাভজনক হবে।
তিনি বলেন, ইলিশ এখন আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের একটি পরিচিত ব্র্যান্ড। “ইলিশ মানেই বাংলাদেশ”-এই সুনাম ধরে রাখতে হলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
চাঁদপুর অঞ্চলের চর ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা গেলে ইলিশ উৎপাদন আরও বাড়বে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য করেন চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অনুরাধা ভদ্র ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম।

এসময় নৌ বাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, স্থানীয় মৎস্যজীবী ও জেলেসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ - ২০২৬ দেশের ইলিশ সমৃদ্ধ ২০টি জেলায় পালিত হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য-“জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী”।