শিরোনাম

ঢাকা, ২৯ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন জাতির সর্বোচ্চ গৌরবের বিষয়। আমাদের স্বাধীনতার প্রকৃত লক্ষ্য ছিল সামাজিক বৈষম্য নিরসন এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও গণতান্ত্রিক মুক্তি।
আজ রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ঢাবি উপাচার্য বলেন, ‘স্বাধীনতার মূল চেতনা তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, ন্যায়বিচার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করবে।’
সভাপতির বক্তব্যে ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক অর্জনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
এ সময় তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একইসঙ্গে তিনি দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
স্বাধীনতার ৫০ বছরের বেশি সময় পার হলেও প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে এখনো ব্যবধান রয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় নিজেকে ‘ফ্যাসিলিটেটর’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতে দেশে আর কোনো বৈষম্য বা স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত হবে না এবং নতুন প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জেনে একটি উন্নত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদের সঞ্চালনায় সভায় শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বক্তব্য রাখেন।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী সমিতি, কারিগরি কর্মচারী সমিতি, চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়ন, মুক্তিযোদ্ধা প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিট কমান্ড এবং ঢাবি শহীদ পরিবার কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ।