শিরোনাম

ঢাকা, ২৯ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : টিকা কেনার জন্য নতুন করে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘বিগত ৮ বছর কোন সরকার হামের টিকা দেয়নি। এ কারণে সম্প্রতি দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে।’
স্বাস্থ্য মন্ত্রী আজ রোববার সকালে রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ১৭তম এশিয়া ফার্মা এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি এ এক্সপোর আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের অনেক স্থানেই গত ১৫ দিনে হামের প্রবণতা বেড়েছে। তবে আমাদের সক্ষমতা রয়েছে। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এ সব রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে সম্প্রতি হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। তবে এ সংকট সমাধানে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে নতুন করে টিকা ক্রয় করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি ডিএনসিসি হাসপাতালে হামের জন্য আলাদা কর্নার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বেসরকারি অনুদানের মাধ্যমে ৫টি ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে আগামীকাল ৪টি রাজশাহীতে পাঠানো হবে।
স্বাস্থ্যখাতে কোনো প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যত সংকটই থাকুক, স্বাস্থ্যখাতে কোনো প্রকার অনিয়ম দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না।’
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের সমস্যাগুলোকে ঠিক করতে সবার সহযোগিতা লাগবে। তবে আমরা কোনো ধরনের দুর্নীতি মেনে নেব না। দুর্নীতি রোধে আমরা সবার সহযোগিতা চাই।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও যদি আমরা করব করব বলি, তাহলে কারা আসলে দেশের পতাকাকে এগিয়ে নেবে? দেশটা যদি শেষ হয়ে যায়, আমরা যদি ভেঙে পড়ি, মানুষের কাছে যদি মানসম্মত ওষুধ তুলে দিতে না পারি, তাহলে দেশটাকে এগিয়ে নিতে পারব না।
এ সময় স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এটি শুধু প্রদর্শনী নয়, বাংলাদেশে ঔষধ শিল্প খাতকে এগিয়ে নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ ওষুধ উৎপাদনে সক্ষম ছিল। বাকি ৮০ শতাংশ ওষুধ ছিল আমদানি নির্ভর।
স্বাস্থ্য সচিব আরও বলেন, বর্তমানে ওষুধের মোট চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। পাশাপাশি নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে পৃথিবীর ১৫৭টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানি করছে।
তিনি বলেন, ওষুধ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এপিআই শিল্পে আরও এগিয়ে যাওয়া চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি আরও বলেন, ‘আমাদের পলিসিগতভাবে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। নীতিগত পরিবর্তন হলে এইখাত আরও এগিয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশ ভারত ও চীনের সঙ্গে এগিয়ে যেতে চায়। চলমান যুদ্ধের কারণে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে ওষুধ শিল্প। নানা পদক্ষেপের ফলে সমস্যা কিছুটা সমাধান হয়েছে।
আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, প্রতিবেশী যে কোনো দেশের তুলনায় আমরা কম মূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করছি। এই খাতকে আরো সমৃদ্ধ করতে হবে এবং আমরা এগিয়ে যাবে। আর এ জন্য সরকারের দিক নির্দেশনা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির মহাসচিব ডা. জাকির হোসেন। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন—বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ হাসান আরিফ ও বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক মেজর জেনারেল মো. শামীম হায়দার ।
তিন দিনব্যাপী এবারের এই আয়োজনে ডেনমার্ক, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, চীন, ভিয়েতনাম, আয়ারল্যান্ড ও ভারতসহ ২০টিরও বেশি দেশের ৪ শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে।