বাসস
  ২৫ মার্চ ২০২৬, ১৮:১২

বগুড়ায় গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণে আলোচনা

ছবি : বাসস

বগুড়া, ২৫ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ তৌফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের সন্তানদের শুধু পাঠ্যবইয়ের পরীক্ষায় পাসের জন্য নয়, বরং দেশপ্রেম ও নৈতিকতায় উদ্বুদ্ধ করতে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। ২৫শে মার্চ কালরাত্রির জঘন্যতম গণহত্যার  উল্লেখ করে তিনি বলেন, "ইতিহাস একটাই, একে নিজের স্বার্থে বিকৃত করা উচিত নয়। যা সত্য, তা-ই নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে।"

বুধবার সকালে বগুড়া মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক দুলাল অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে ‘গণহত্যা দিবস ও ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানের অনেক শিক্ষার্থী ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর কোনটা কি দিবস গুলিয়ে ফেলে। এর পেছনে সঠিক প্ল্যাটফর্ম ও পারিবারিক শিক্ষার অভাবকে তিনি দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘পরিবারই হলো প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সন্তান মাদকাসক্ত হলে বা নৈতিকভাবে বিচ্যুত হলে শুধু রাষ্ট্রকে দোষ দিলে চলবে না, অভিভাবকদেরও দায় নিতে হবে।’ তিনি তরুণ সমাজকে অপরাধ ও নেশা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

২৫মার্চের ভয়াবহতা স্মরণ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ওই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা ও রাজারবাগসহ বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি বাহিনী যে বর্বরতা চালিয়েছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। সেই নিষ্ঠুরতার প্রতিবাদেই বাঙালি জাতি স্বাধীনতার চূড়ান্ত লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ৫৬ বছরের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার ব্যবধান ঘুচাতে তিনি ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর করার ওপর জোর দেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জনাব মো. মেজবাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: মির্জা সায়েম মাহমুদ (পিপিএম) পুলিশ সুপার, মো. খুরশীদ আলম, সিভিল সার্জন, বগুড়া।

মো. রমজান আলী আকন্দ-জেলা শিক্ষা অফিসার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল কাদের। তিনি যুদ্ধের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন ও মো. আনোয়ার হোসেন- প্রধান শিক্ষক, বগুড়া জিলা স্কুল।

সকাল ১১ টায় মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক দুলাল অডিটরিয়াম, বগুড়া জেলা স্কুলে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিনিয়র তথ্য অফিসার জনাব মুহা. মাহফুজার রহমান। 

আলোচনা সভায় বগুড়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। বক্তারা শিক্ষার্থীদের ধৈর্যশীল হওয়া এবং গুণীজনদের কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনার পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানটি সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে বগুড়া জিলা স্কুল কর্তৃপক্ষ।

শেষে প্রধান অতিথি স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।