বাসস
  ২৫ মার্চ ২০২৬, ১৬:৩৭

রংপুরে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালিত

ছবি : বাসস

রংপুর, ২৫ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরার আহ্বানের মধ্য দিয়ে রংপুরে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে।

দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে বুধবার গণহত্যা দিবস ও ঐতিহাসিক মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান।

রংপুর জেলা প্রশাসন এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের নৃশংস গণহত্যা বাঙালি জাতির স্বাধীনতার সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করে এবং পরদিনই স্বাধীনতার ঘোষণা আসে।

তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক নেতার উচ্চভিলাষী মনোভাব, রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা ও সঠিক দিক-নির্দেশনার অভাবে এই গণহত্যা সংঘঠিত হয়।

এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষ বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়নের শিকার হয়।

তিনি আরও বলেন, অবশেষে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে সমগ্র জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে।

ইতিহাসের এই অধ্যায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বজায় রাখতে জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাই নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, বহু ত্যাগ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে অর্জিত হয় স্বাধীনতা।

এটি জাতির ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, এই স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করা এবং একটি সাম্যভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

নাগরিক হিসাবে দেশের অগ্রগতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী, পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হোসেন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবু সাত্তার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীর শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।