বাসস
  ২৫ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫৬

জিরা চাষে সফল সাতকুড়ী গ্রামের কৃষক হামিদুর

ছবি: বাসস

\ রোস্তম আলী মন্ডল \

দিনাজপুর, ২৫ মাচর্, ২০২৬ (বাসস) : জেলার হাকিমপুর উপজেলার হিলি সীমান্তে সাতকুড়ী গ্রামের কৃষক হামিদুর রহমান(৪২) তার নিজের ৩ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে জিরা চাষ করে সফল হয়েছেন। আজ দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজ আরজিনা বেগম এই তথ্য বাসসকে নিশ্চিত করেন। 

আরজিনা বেগম বলেন, জিরা চাষে সফল উদ্যোক্তা কৃষক হামিদুর রহমান কৃষিতে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে নিজের ৩ শতক জমিতে স্বল্প পরিসরে জিরা চাষ করে সফল হয়েছেন। ওই কৃষক অনলাইনের মাধ্যমে জিরার বীজ সংগ্রহ করে প্রথমবারের মতো জিরা চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। মাত্র ৩ শতক জমিতে জিরা চাষ করে প্রায় ৫ কেজি জিরা উৎপাদন করেছেন। তার এই সফল জিরা চাষ এলাকার তরুণ ও যুবক কৃষকদের জিরা চাষে আগ্রহ সৃষ্টি করছে। 

কৃষক হামিদুর রহমান বাসসকে বলেন, অনলাইনে জিরার বীজ সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেছি। আমাদের এলাকায় আগে কখনো জিরা চাষ হয়নি। প্রথমবার আমি নিজ উদ্যোগে ৩ শতক জমিতে চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি। আমার জমিতে উৎপাদিত জিরা উন্নতমানের এবং সুঘ্রাণযুক্ত। 

তিনি বলেন, বাজারের জিরার তুলনায় আমার উৎপাদিত জিরার সুগন্ধ অনেক ভালো। এতে আমি আরও উৎসাহ পেয়েছি। আগামীতে আমি আরও বেশি জমিতে জিরা চাষ করব বলে আশা রাখছি।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় এই প্রথম জিরা চাষ দেখলাম। 
উৎপাদিত জিরার গাছ অনেক ভালো এবং ফলন উৎকৃষ্টমানের বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমাদের মাটিতে এভাবে জিরা চাষ সম্ভব এটা ভাবতেই পারা যায় না। আমি নিজেও আগামীতে আমার জমিতে জিরা চাষ করব। 

তিনি বলেন, খরচ তুলনামূলক কম। আবার ফলন পেতেও সময় কম লাগে। এটা আমাদের জন্য লাভজনক হতে পারে। 

রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে হিলি বাজারে ভারত থেকে আমদানি করা জিরা প্রতি কেজি ৬০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। ওইসব জিরার তুলনায় কৃষক হামিদুর রহমানের উৎপাদিত জিরার মান অনেক ভালো। 

হাকিমপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী বাসসকে বলেন, অনলাইনের মাধ্যমে বীজ সংগ্রহ করে নতুন ফসল চাষ শুরু করা সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলে জিরা চাষ সফল হওয়ায় অন্য কৃষকরাও আগ্রহী হচ্ছেন। আগামীতেও যেন দেশেই জিরা চাষ করে দেশের চাহিদা মেটানো যায়, এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগ উদ্যোগ নেবে বলে আশা করছি।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, উন্নতমানের বীজ সংগ্রহ ও সঠিক পরিচর্যার কারণে এই ফলন সম্ভব হয়েছে। আগামীতে আমাদের দেশের মাটিতেই জিরা চাষে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। এ ধরনের মশলা জাতীয় ফসলের চাষ বাড়লে এলাকায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।