বাসস
  ২৫ মার্চ ২০২৬, ১৫:৪০

রংপুরে আইসক্রিমের ভেতরে জ্যান্ত কেঁচো

ছবি: বাসস

রংপুর, ২৫ মার্চ ২০২৬ (বাসস) : জেলার গংগাচড়ায় শিশুদের অতি প্রিয় খাবার আইসক্রিমে মিলল জ্যান্ত কেঁচো! এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার এ অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে কারখানা মালিককে ২০ হাজার এবং আইসক্রিম বিক্রেতাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। জেসমিন আক্তার আজ সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্নেয়া ইউনিয়নের আলেমার বাজার এলাকায় ‘পিওর’ নামে আইসক্রিম কারখানাটি সরকারি অনুমোদন ব্যতিত দীর্ঘদিন ধরে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। হকারদের মাধ্যমে এই আইসক্রিমগুলো গ্রামগঞ্জের শিশুদের মাঝে বিক্রি করা হতো। লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নে কয়েকজন শিশু জনৈক এক হকারের কাছ থেকে আইসক্রিম কিনে খাওয়ার সময় দেখতে পায়, একটি আইসক্রিমের ভেতরে বড় আকৃতির একটি কেঁচো আটকে আছে। মুহূর্তের মধ্যেই বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পরে ঘটনাটি জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার। কারখানাটিতে অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি ও পণ্যের মোড়কে উৎপাদন বা মেয়াদের তারিখ না থাকা এবং নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকারক রং ব্যবহারের অভিযোগে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। লাইসেন্সবিহীন কারখানা পরিচালনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৩৭ ধারায় কারখানা মালিককে ২০ হাজার টাকা এবং বিক্রেতাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে প্রশাসন। পরে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ আইসক্রিম জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।

ইউএনও জেসমিন আক্তার বলেন, শিশুদের খাদ্যের মান নিয়ে কোনো আপোস করা হবে না। তবে অভিভাবকদের প্রতি আমাদের অনুরোধ, শিশুদের হাতে যে-কোনো খাবার তুলে দেওয়ার আগে সেটির মান ও মেয়াদ ভালো করে যাচাই করে নিন।

তিনি জানান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরির সাথে যুক্ত অভিযুক্তরা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। তাদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে।