শিরোনাম

রংপুর, ২৫ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিতে রংপুর অঞ্চলের সম্ভাবনাময় কৃষিভিত্তিক শিল্পখাতের দ্রুত উন্নয়নে উদ্যোক্তারা সহায়তা করতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘সস্তা জমি, সস্তা শ্রম, ভালো মানুষ এবং চমৎকার আইন-শৃঙ্খলার কারণে রংপুর অঞ্চলে শিল্পের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে।’
গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে নগরীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে 'উত্তরাঞ্চলে সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের সম্ভাবনা' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, রংপুর অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। তাই এখানে ন্যায়সঙ্গত আঞ্চলিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের জন্য বিশেষ সুযোগ প্রদান করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, উপযুক্ত বিনিয়োগকারী ও সরকারের সহযোগিতা এবং ন্যায়সঙ্গত আঞ্চলিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের জন্য বিশেষ সুযোগ পেলে এই অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভব হবে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, রংপুর দেশের খাদ্যশস্যের অন্যতম প্রধান ভান্ডার। এখানকার জমি ও শ্রমের মূল্য তুলনামূলকভাবে কম, মানুষ পরিশ্রমী এবং আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতিও শিল্পায়নের জন্য অনুকূল।
রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিল্পায়নের সম্ভাবনা চিহ্নিত করে তা আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আসাদুল হাবিব দুলু মনে করেন, এভাবে অঞ্চলটিকে জাতীয় উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
মন্ত্রী জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রংপুরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনা ও সম্পদ নিয়ে কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, যদি বিনিয়োগকারীদের আনা যায় এবং সরকার সেই সুযোগ তৈরি করে দেয় আর আমরা যদি আমাদের আঞ্চলিক উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে পারি, তাহলে নতুন সরকারের আকাঙ্ক্ষা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
সেই সম্ভাবনা থেকেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে রংপুরে পাঠিয়েছেন; যাতে আসন্ন বাজেটে এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ রাখা যায়।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, রংপুর অঞ্চলের উন্নয়নে তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এগুলো হল-উদ্বৃত্ত কৃষি পণ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন।
শস্য, গবাদি পশু, ফলমূল এবং পাথর ও বালির মত সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়াবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি, পরবর্তী বাজেট এবং চার বছর মেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা প্রতিফলিত করার ওপর জোর দেন।
উদ্যোক্তাদের জন্য প্রারম্ভিক মূলধন এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব বাড়বে, যা সার্বিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।’
তিনি বিনিয়োগের ওপর রিটার্ন নিশ্চিত করা এবং নির্দিষ্ট অঞ্চল ও পণ্যের ওপর ভিত্তি করে শিল্পায়নের ওপর জোর দেন। বন্দর, রেলপথ ও আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন আঞ্চলিক শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও উল্লেখ করেন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন রংপুর-৩ আসনের সাংসদ মাহবুবুর রহমান বেলাল; রংপুর-১ আসনের রায়হান সিরাজী; রংপুর-৬ আসনের মো. নুরুল আমীন; রংপুর-৫ আসনের সাংসদ গোলাম রব্বানী; রংপুর সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন; জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম; জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান; রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো: শামসুজ্জামান সামু প্রমুখ।