বাসস
  ২৪ মার্চ ২০২৬, ১৫:৩২

বজ্রপাতের ঝুঁকি নিরসনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বৃদ্ধির নির্দেশ

ঢাকা, ২৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ক্রমবর্ধমান বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি মাদ্রাসা পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক এক চিঠির প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের নির্দেশনা সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকার ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে ‘দুর্যোগ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বিগত বছরগুলোতে দেশে বজ্রপাতে গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ জন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। 

এই প্রেক্ষাপটে জনসচেতনতা বৃদ্ধিকেই বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি ও ঝুঁকি হ্রাসের কার্যকর পন্থা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি (এসওডি) ২০১৯ এর আলোকে দেশের সকল জেলা ও উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান চলাকালীন ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বজ্রবৃষ্টি ও বজ্রপাত সংক্রান্ত সতর্কীকরণ বার্তা প্রচার করতে হবে।

এছাড়া, প্রতিটি মসজিদে জুম্মার নামাজের পূর্বে ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে সুবিধাজনক সময়ে বজ্রপাতে করণীয় বিষয়ক সতর্কবার্তা প্রচারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এদিকে বজ্রপাতের সময় নিরাপদ থাকতে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিশেষ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— এপ্রিল থেকে জুন মাসে বজ্রপাতের প্রকোপ বেশি থাকায় ঘনকালো মেঘ দেখলে জলাশয় থেকে দূরে থাকা, বজ্রপাতের সময় ধাতব বস্তু বা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম স্পর্শ না করা ও জানালার কাছাকাছি না থাকা।

অধিদপ্তরের পরামর্শ সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী, ঘরের বাইরে থাকলে দ্রুত পাকা দালানে আশ্রয় নেওয়া এবং উঁচু গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও খোলা মাঠে থাকলে কানে আঙুল দিয়ে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে নিচু হয়ে বসা এবং কোনো ব্যক্তি বজ্রাহত হলে তাকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যেকোনো মোবাইল থেকে ১০৯০ নম্বরে ডায়াল করে জরুরি আবহাওয়া বার্তা জেনে নেওয়ার জন্যও সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে দেশের সকল সরকারি মাদ্রাসা, বিএমটিটিআই এবং বেসরকারি মাদ্রাসার প্রধানদের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ওপর অধিদপ্তরে নিয়মিত মাসিক প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।